দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবি: জাবি শিক্ষার্থী রাইয়ানসহ একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাইয়ান | ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী রাইয়ানসহ একই পরিবারের তিন সদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান শেষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাইয়ানের মরদেহ শনাক্ত করেন তার স্বজন ও সহপাঠীরা।

এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন।

আহনাফ তাহমীদ খান রাইয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং রাজবাড়ী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির (২০২৫-২৬ সেশন) সাবেক সভাপতি ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় রাইয়ানের মা ও তার শিশু ভাগনেও প্রাণ হারিয়েছেন। রাইয়ানের বোনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পরিবারের অন্য তিন সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

উদ্ধার অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল জানায়, দুর্ঘটনার প্রায় ৬ ঘণ্টা পর রাত সোয়া ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সাহায্যে বাসটি টেনে তোলা হয়। বাসটির ভেতর থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ১০ জন নারী, ৪ জন পুরুষ এবং ২ জন শিশু। এর আগে দুজনকে হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। সর্বশেষ তথ্যমতে মোট ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

জানা গেছে, বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে মাত্র ৬ জন যাত্রী নিয়ে রওনা দিলেও পথিমধ্যে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। কাউন্টার মাস্টারের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।

রাইয়ানের অকাল মৃত্যুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার সহপাঠীরা জানান, রাইয়ান একজন মেধাবী ছাত্র ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


আমার বার্তা/এমই