বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে: ঢাবি উপাচার্য
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১৮:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য প্রফেসর এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ইউজিসি আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষের রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর মো. আখতার হোসেন খান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আবদুল হান্নান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর এ বি এম বদরুজ্জামান প্রমুখ।
ঢাবি উপাচার্য বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কেবল জ্ঞান নেওয়ার রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে জ্ঞান সৃজনকারী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে কর্মশালার সুপারিশসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, কর্মশালার সুপারিশসমূহ দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়ন, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে একটি কার্যকর রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে।
কর্মশালায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিতকরণ, কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (KPI) ভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু, বার্ষিক পারফরম্যান্স রিভিউ, পিএইচডি ও পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতের অর্থায়নে গবেষণা তহবিল গঠনের সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রম প্রণয়নে শিল্প প্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ, সেক্টরভিত্তিক জনবল চাহিদা নিরূপণ, আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (OBE) বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
গবেষণা ও উদ্ভাবন জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র স্থাপন, প্রযুক্তি স্থানান্তর অফিস গঠন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু এবং শিল্প ও অ্যালামনাই-ভিত্তিক গবেষণা তহবিল গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক প্রভাবসম্পন্ন গবেষণা পরিচালনা, পেটেন্ট নীতি হালনাগাদ, আধুনিক ল্যাব ও গবেষণা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানমুখী গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
আমার বার্তা/এমই
