বকেয়া পাওনা ও ৫ শতাংশ সুবিধা আদায়ে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের মানববন্ধন
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:২৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

টেলিযোগাযোগ খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে বকেয়া পাওনা ও ৫% সুবিধা আদায়ের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১১টা জাতীয় প্রেসক্লাব-এর সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন গ্রামীণফোনে বিভিন্ন সময়ে কর্মরত প্রায় ১২০০ শ্রমিক-কর্মচারী। মানববন্ধনে শ্রমিকদের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রধান সমন্বয়ক সাহিদুর রহমান, কাজী মতিউর রহমান, কোবাদ হোসেন, মোখলেসুর রহমান হালিম, নুর জালালসহ আরও অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চালক, অফিস সহকারী, টেকনিশিয়ান, মেকানিক, লোডার, কুক ও সাপোর্ট স্টাফসহ বিভিন্ন পদে নিয়োজিত থাকলেও তাদের অধিকাংশকে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী কোনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। অথচ প্রতিষ্ঠান থেকে আইডি কার্ড প্রদান করা হলেও সেখানে যোগদানের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি—যা শ্রমিকদের আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করার একটি কৌশল বলে দাবি করেন তারা।
শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি নিয়োগের পরিবর্তে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেতন-ভাতা প্রদান করে তাদের প্রকৃত অধিকার খর্ব করা হয়েছে। এতে জড়িত কিছু অসাধু কর্মকর্তা বছরের পর বছর শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বছরে ১১ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি। এমনকি ২০ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের আশ্বাস দিয়ে মাত্র ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এছাড়া সামান্য কারণে চাকরিচ্যুতি, সাময়িক বরখাস্ত, ১৫ দিনের বেতন কর্তন এবং অপমানজনক শাস্তি হিসেবে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।
এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা ২০০৮ সালে ঢাকার শ্রম আদালতে প্রথম দফায় ৪৬৫টি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপে আরও শতাধিক মামলা করা হয়। এসব মামলার বেশিরভাগেই শ্রমিকদের পক্ষে রায় এলেও গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ আপিল, রিট ও স্থগিতাদেশের মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি জটিলতা সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
শ্রমিকদের দাবি, শ্রম আদালত ও আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল থাকলেও উচ্চ আদালতে দীর্ঘসূত্রতা এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে আপিলের কারণে এখনো অধিকাংশ শ্রমিক তাদের ন্যায্য পাওনা পাননি। সর্বশেষ ২০২০ সালে সর্বোচ্চ আদালত থেকে লাম্পসাম অর্থ পরিশোধের নির্দেশ এলেও সেটিও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধনে আরও জানানো হয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমিকদের ৫% সুবিধাসহ সকল প্রাপ্য পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তা উপেক্ষা করেছে বলে দাবি করেন শ্রমিকরা।
এছাড়া ২০১৭ সালে ঘোষিত প্রায় ১৯ লাখ টাকার প্যাকেজ এবং পরবর্তীতে ৫০ লাখ টাকার প্যাকেজ থেকেও শ্রমিকদের আংশিক অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১৭ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠে।
শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার জন্য গঠিত ট্রেড ইউনিয়নগুলোর কার্যক্রমেও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়। আদালতে রিট করে ইউনিয়নের কার্যক্রম স্থগিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।
বর্তমানে শ্রমিকরা তাদের পাওনা আদায়ে নতুন করে শ্রম আদালতে একাধিক মামলা করেছেন, যা বিচারাধীন রয়েছে।
মানববন্ধন থেকে শ্রমিকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত বকেয়া পরিশোধ ও ৫% সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ জরুরি। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আমার বার্তা/এমই
