পেছনে মোটরসাইকেলের শব্দ মানেই ভয়! ঢাকাজুড়ে নতুন আতঙ্ক ফ্যামিলি ছিনতাই চক্র
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ১২:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ
মেহরাজ রাব্বি:

দুই ভাই-বোনজামাইয়ের মোটরসাইকেল ছিনতাই সাম্রাজ্য, রেহাই পেলেন না পুলিশ সুপারও!
মেহরাজ রাব্বি ।। রাজধানী ঢাকার রাস্তায় যেন নতুন করে ফিরে এসেছে রাতের আতঙ্ক। গভীর রাত হলেই মোটরসাইকেলে চড়ে বের হতো এক ভয়ংকর ফ্যামিলি ছিনতাই চক্র । দুই ভাই ও তাদের বোনজামাই মিলে গড়ে তোলে সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্র। বাইরে থেকে কেউ চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী,কিন্তু রাত নামলেই তারা হয়ে উঠত নগরীর আতঙ্ক!
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলো পলাশ, সাকিব ও তাদের বোনজামাই বিপ্লব। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তারা মোটরসাইকেলে ঘুরে ছিনতাই চালিয়ে আসছিল।বিশেষ করে গভীর রাতে অটোরিকশার যাত্রী, একা পথচারী এবং নারী যাত্রীদের টার্গেট করাই ছিল তাদের প্রধান কৌশল। মুহূর্তের মধ্যে ব্যাগ, মোবাইল ও মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করত এই চক্র।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, রোববার গভীর রাত থেকেই গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল এই চক্র। পরে ধানমন্ডি-২৭ এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি ছিল যেন সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্য!
পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মোটরসাইকেলে পালাতে পালাতে তারা চলে যায় মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকা পর্যন্ত। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।পুলিশ জানায়, ধাওয়া ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় এবং তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়। তবে এই চক্রের আরও দুই সদস্য পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো,এই ছিনতাই চক্রের শিকার হয়েছেন পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত পুলিশ সুপার শামীমা ইয়াসমিনও।গত শনিবার রাতে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে অটোরিকশায় যাওয়ার সময় তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। একজন পুলিশ সুপারই যদি রাজধানীর রাস্তায় নিরাপদ না হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়,এমন প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।রাজধানীবাসীর অভিযোগ, রাতে ঢাকার অনেক সড়ক এখন কার্যত ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণে। বিশেষ করে পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা মোটরসাইকেল দেখলেই আতঙ্কে কেঁপে ওঠেন পথচারীরা। নগরজীবনে এখন নতুন এক ভয়,মোটরসাইকেল মানেই ছিনতাইকারী কি না!
সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল গ্যাংগুলোকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে রাজধানীতে ছিনতাই আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।একই সঙ্গে রাতের টহল, সিসিটিভি নজরদারি ও সন্দেহভাজন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন
