প্রাইম ফাইন্যান্স অবসায়ন ও আমানত ফেরতের দাবি
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের অবিলম্বে অবসায়ন (বিলুপ্তি) এবং আটকে থাকা আমানত ফেরতের কার্যকর প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানিয়েছে ‘বঞ্চিত আমানতকারী ঐক্য পরিষদ, Prime Finance (PFIL)’।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা বলেন, একাধিকবার সংশোধনের সুযোগ ও বৈঠকের পরও আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। তাই আর সময় না বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৮ জুন ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে প্রাইম ফাইন্যান্সের আর্থিক অবস্থা নিয়ে গুরুতর মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে অথবা কার্যকর হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই—এমন মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটিকে আটটি সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন আমানতকারীরা। এর মধ্যে পরিচালনা পর্ষদ ও স্পন্সরদের মাধ্যমে ন্যূনতম ১০০ কোটি টাকা মূলধন সরবরাহ, ৫৭০ কোটি টাকার তারল্য সংস্থান, সম্পদ বিক্রি করে ব্যক্তিগত আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ এবং খেলাপি ঋণ আদায় জোরদারের বিষয় ছিল।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ না হলে প্রশাসক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় রেজল্যুশন ও অবসায়ন কার্যক্রম শুরুর কথা ছিল। তবে সময়সীমা শেষ হলেও এসব বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব মূল্যায়ন ও নির্ধারিত শর্ত থাকার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে কেন—এ প্রশ্ন তোলেন আমানতকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ১৩ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ মূলধন ফেরতের দাবি জানানো হয়েছিল। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে দেওয়া আবেদনে অবিলম্বে অবসায়নসহ জরুরি হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানানো হয়।
আমানতকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আটকে থাকায় প্রবীণদের সঞ্চয়, অবসরকালীন অর্থ এবং প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয়ও এতে আটকে রয়েছে। অর্থ ফেরত না পাওয়ায় অনেক পরিবার চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে আর্থিক সংকটে পড়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-প্রাইম ফাইন্যান্সের অবিলম্বে অবসায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা, আমানত ফেরতের পদ্ধতি ও সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সংরক্ষণ, পাওনা আদায় ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রতিনিধিরা বলেন, তারা আর কোনো আশ্বাস বা সময় বৃদ্ধি চান না; দ্রুত অবসায়ন ও আমানত ফেরতের কার্যকর ব্যবস্থা চান। পরে একই দাবিতে আমানতকারীরা একটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
