বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাপ্লাই চেইনে ‘জিরো টলারেন্স’ চট্টগ্রাম বন্দরের
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সাপ্লাই চেইনে বিলম্বের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এক স্ট্র্যাটেজিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বন্দর সচিব স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আমদানি-রফতানি কার্যক্রম দ্রুততর করতে চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস তিন শিফটে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। খেজুর, ফলমূল, মসলা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো রমজানকেন্দ্রিক নিত্যপণ্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাস ও ডেলিভারি নিশ্চিত করা হবে।
ঢাকামুখী বন্দরে জমে থাকা প্রায় দুই হাজার কনটেইনার দ্রুত পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে-এর মাধ্যমে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি অপারেশনাল কার্যক্রম ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং রিয়েল-টাইমে মনিটর করতে দুটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
সভায় ঢাকা আইসিডিমুখী কনটেইনার দ্রুত প্রেরণ এবং কনটেইনার অপারেশনসংক্রান্ত বিষয়ে রেলওয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমদানি-রফতানিকারকদের সঙ্গে জরুরি সভা আয়োজনের বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়।
এদিকে বন্দরের গেটে বসানো বাংলাদেশ কাস্টমসের স্ক্যানারগুলোর মধ্যে ৪-৫টি অচল থাকায় স্ক্যানিংয়ের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এতে স্বাভাবিক অপারেশন ব্যাহত হচ্ছে বলে সভায় আলোচনা হয়। গেট এলাকায় কনটেইনার জট কমাতে স্ক্যানারগুলোর দ্রুত মেরামত ও আধুনিকায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জানান, বন্দরের অপারেশনাল, লজিস্টিকস ও টেকনিক্যাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্দরের প্রতিটি ইক্যুইপমেন্ট সচল রাখতে একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে।
সভায় বন্দর সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. সামীমুজ্জামান, কাস্টমস ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া চিটাগাং চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন-সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে রমজানজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং বাজারে অস্থিরতা কমে আসবে।
আমার বার্তা/জেএইচ
