ফেনীতে ৩০ পরিবারে সেলাই মেশিন বিতরণ

প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

ফেনীর ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলায় এক ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে ৩০টি পরিবারে স্বাবলম্বিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বিশিষ্ট শিল্পপতি খন্দকার মইনুল আহসান শামিম-এর ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেলাই মেশিন, একটি হুইলচেয়ার ও একটি ভ্যানগাড়ি বিতরণ করা হয়েছে কর্মহীন ও অসচ্ছল পরিবারের মাঝে।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ ২০২৬) সকালে ১০নং ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা গ্রামের ওয়াহিদুর রহমান মেমোরিয়াল একাডেমি মাঠে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় নারী ও প্রতিবন্ধী উপকারভোগীদের হাতে সরাসরি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ৩০ জন অসহায় নারীকে একটি করে নতুন সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়, যাতে তারা ঘরে বসেই আয়মূলক কাজে যুক্ত হতে পারেন। পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের সুবিধার্থে একটি ভ্যানগাড়ি এবং চলাচলে অক্ষম একজন ব্যক্তির জন্য একটি হুইলচেয়ার হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সিদ্দীকি, ওয়াহিদুর রহমান মেমোরিয়াল একাডেমির প্রিন্সিপাল আব্দুল মান্নান লাভলু, ইউনাইটেড ট্রাস্টের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর লায়ন মোহাম্মদ ফয়সল ভূঁইয়া সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আয়োজক পক্ষ জানায়, সাময়িক অনুদান দিয়ে দায়সারা সহায়তা নয়-বরং দীর্ঘমেয়াদে আয়ের পথ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সেলাই মেশিনগুলো নারীদের ঘরে বসে পোশাক তৈরি ও মেরামতের কাজের সুযোগ করে দেবে, যা তাদের পরিবারে নিয়মিত আয় নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। একইভাবে ভ্যানগাড়িটি একজন উপকারভোগীর দৈনন্দিন উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

উপকারভোগী নারীরা জানান, আর্থিক সংকটের কারণে তারা এতদিন কোনো স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেননি। নতুন এই সহায়তা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং পরিবারে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে জীবনের “নতুন শুরু” হিসেবে উল্লেখ করেন।

শিল্পপতি খন্দকার মইনুল আহসান শামিম বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও দারিদ্র্য নিরসনে তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। সমাজের বিত্তবানদেরও তিনি মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এমন উদ্যোগ কেবল আর্থিক সহায়তাই নয়-বরং আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতার শক্ত ভিত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৩০টি পরিবার এখন নতুন সম্ভাবনার পথে যাত্রা শুরু করল।