চট্টগ্রাম বন্দরে আসা ও পথে থাকা জাহাজে পৌনে ৪ লাখ টন তেল-গ্যাস

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১৩:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে তেল-গ্যাসের ১০টি জাহাজ। এরই মধ্যে রোববার (৮ মার্চ) সকালে জ্বালানিবাহী আটটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে নোঙর করে। প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ পথে রয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) জাহাজ দুটি চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবে। সব মিলিয়ে ১০টি জাহাজে পৌনে ৪ লাখ টন তেল-গ্যাস রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের আগে পারস্য উপসাগরের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসব জাহাজ চট্টগ্রামে আসতে শুরু করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো এবং পথে থাকা এসব জাহাজের মধ্যে চারটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং দুটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রয়েছে। এছাড়া ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য নিয়ে পৌঁছেছে আরও চারটি জাহাজ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও এলএনজি সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়ে।

হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব—এই সাত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য আনা-নেওয়া হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রণালির পাশের দেশ ওমান থেকেও ওমান উপসাগরীয় পথে পরিবহন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে এই প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগর, আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশে জাহাজ আসে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গত শুক্রবার (৬ মার্চ) জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। 

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া সোমবার ‘লুসাইল’ ও বুধবার ‘আল গালায়েল’ নামে আরও দুটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা। সব মিলিয়ে এই চার জাহাজে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর দুই থেকে সাত দিন আগে কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে আসে এসব জাহাজ।

এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, চারটি জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। তবে ‘লিব্রেথা’ নামের আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে রয়েছে। জাহাজটিতে এলএনজি বোঝাই করা হয়েছে এবং এটি প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে। তবে পরবর্তী পর্যায়ের চালানগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরবরাহ সংকট এড়াতে সরকার খোলাবাজার থেকে বেশি দামে দুই জাহাজ এলএনজি কিনেছে, যা এখনো বন্দরে পৌঁছায়নি।

বাংলাদেশে এলপিজি আমদানি হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আগেই ওমান উপসাগর থেকে ‘সেভান’ নামের একটি জাহাজ আজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটিতে রয়েছে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি, যা ওমানের সোহার বন্দর থেকে আসছে।

এর আগে একই বন্দর থেকে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামে আরেকটি এলপিজিবাহী জাহাজ যুদ্ধ শুরুর আগেই বন্দরে পৌঁছেছে। ওই জাহাজে ছিল ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি। সব মিলিয়ে দুটি জাহাজে এলপিজি রয়েছে ৪১ হাজার ৪৮৮ টন।

দেশে ডিজেলের মজুত কমতে থাকার সময়ে বন্দরের পথে রয়েছে ‘এসপিটি থেমিস’ নামের ৩১ হাজার টনের একটি জাহাজ। ১২ মার্চ জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে।

এদিকে, মালয়েশিয়া থেকে ১৪ হাজার টন গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট নিয়ে পৌঁছেছে ‘হুয়া সুন’ নামের একটি জাহাজ। কনডেনসেট থেকে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও এলপিজি উৎপাদন করা হয়। এর বাইরে সিঙ্গাপুর থেকে ৪০ হাজার টন ফার্নেস তেল নিয়ে পৌঁছেছে দুটি জাহাজ।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর গত ৪ মার্চ এলপিজি ও ডিজেল নিয়ে আসা দুটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজ দুটি তেল-গ্যাস খালাস করে শুক্রবার বন্দর ছেড়েছে। জাহাজ দুটি হলো ‘ওরিয়েন্টাল গ্রিনস্টোন’ ও ‘পল’।


আমার বার্তা /জেএইচ