ইলিশের বাজারে আকাল, দাম শুনে ক্রেতাদের মাথায় হাত
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:২৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

আজ চৈত্রসংক্রান্তি। আগামীকাল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সর্বত্র চলছে বর্ষবরণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আর এই উৎসবকে ঘিরে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘পান্তা ইলিশ’ এর গল্প চলে আসছে অনেক আদিকাল থেকেই।
কিন্তু বাদ সেধেছে ইলিশের দাম নিয়ে। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য আড়ৎ ইলিশের দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। সরবরাহ সংকট ও বাড়তি চাহিদার কারণে পাইকারি থেকে খুচরা-সব বাজারেই ইলিশ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সরেজমিনে মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাইজ ভেদে ৯০০ থেকে ১১০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। আবার, ৭০০-৮০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা, ৪০০-৬০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং ছোট জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা মণ দরে।
পাইকারি বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। শহরের নিউ মার্কেটসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক সাধারণ ক্রেতা। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মৎস্য আড়ৎ ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অনেক জেলে সাগরে যেতে পারছেন না। এর ফলে মাছ আহরণ কমে গেছে।
এর সঙ্গে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা এবং পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাড়তি চাহিদা সব মিলিয়ে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।
মহিপুরের এক আড়ৎ বিক্রেতা শাহআলম হাওলাদার বলেন, সাগরে মাছ কম, আবার তেলের সমস্যায় জেলেরা যেতে পারছে না। তার উপর সামনে নিষেধাজ্ঞা সব মিলিয়ে আমরা সংকটে আছি।
ক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, ইলিশের দাম দেখে অবাক হয়ে গেছি। মনে হচ্ছে স্বর্ণের চেয়েও দাম বেশি। সাধারণ মানুষের পক্ষে এখন ইলিশ কেনা কঠিন।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ফজলু গাজী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ইলিশ না থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে। বৈশাখের সময় চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ কম।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, পহেলা বৈশাখকে ঘিরে প্রতি বছরই ইলিশের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এবার সাগরে মাছ কম এবং জ্বালানি সংকটের কারণে জেলেরা কম সাগরে যেতে পারছেন। এ কারণেই দাম বেশি।
এ সময় তিনি আরও জানান, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
