রমজানের শুরুতে চট্টগ্রামের বাজারে নিত্যপণ্যের ‘গলাকাটা’ দাম
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে না হতেই চট্টগ্রামের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার পাশাপাশি ইফতারের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় শসা, বেগুন ও লেবুর দাম কেজিতে ২০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চাহিদাকে পুঁজি করে নিত্যপণ্যের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ।
চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে চার দিন আগেও যে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, আজ (শুক্রবার) তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। ৩০ থেকে ৪০ টাকার টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে। এ ছাড়া ৪০ টাকার বেগুন কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
গত রোববার ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তা ১০০ টাকায় ঠেকেছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি রসুন ও আদার দামও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত রোববার ১৬৫ টাকায় বিক্রি হওয়া রসুনের দাম বর্তমানে ২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ এখন ৬৫ টাকা এবং পুরাতন মোটা পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি বাজারে সরবরাহে ঘাটতি থাকার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হলেও ভারতীয় পেঁয়াজ নেই বললেই চলে। অল্প পরিমাণে যা পাওয়া যাচ্ছে, তার পাইকারি দামই পড়ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। এ ছাড়া চায়না রসুন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, দেশি রসুন ৯০ টাকা এবং আদা (চায়না ও ভারতীয়) ১০৫ টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাকলিয়া এলাকার ক্রেতা সাদ্দাম হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘পৃথিবীর অন্য মুসলিম দেশে রমজানে পণ্যের ওপর ছাড় দেওয়া হয়, অথচ আমাদের দেশে উল্টো। রমজানকে পুঁজি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মাসের বাজেট এখন আর ঠিক রাখা যাচ্ছে না।’ তবে খুচরা বিক্রেতা সজিব মিয়ার দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তাদের চড়া মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতি সরবরাহ স্বাভাবিক দাবি করলেও পাইকারি ও খুচরা দামের বিশাল ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাজারে বর্তমানে আদা ১২০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইফতারের প্রয়োজনীয় বড় লেবুর হালি ১০০ টাকা এবং পুদিনা পাতা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
নজরদারির অভাব বাজারের এই নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, প্রশাসনের বাজার মনিটরিংয়ে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে এবং এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানার আওতায় আনছি। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই তদারকি অব্যাহত থাকবে।’
আমার বার্তা/জেএইচ
