বোতলজাত সয়াবিন তেলে সংকট, খোলা তেলের কেজি বেড়ে ২১০ টাকা

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেলে সংকট শুরু হয়েছে প্রায় দেড় মাস আগে। দোকানগুলোতে আগে বিভিন্ন অপরিচিত ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল দেখা গেলেও এখন চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। আর পরিচিত ব্র্যান্ডের তেলও চাহিদা অনুযায়ী খুবই সামান্য মিলছে। এতে খোলা তেলের বিক্রি বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা।

ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই বাজারে খোলা তেলের কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছিলো। ঈদের পর গত কয়েকদিনে সেটি আরো বেড়ে বিভিন্ন বাজারে ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর বোতলজাত তেল লিটার হিসেবে আগের দামে ১৯৫ টাকায় প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানেই বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। এই চিত্র অবশ্য দুই একদিনের নয়; ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে সয়াবিন তেলের সবরাহে চরম সংকট দেখা যায়। এমনকি সুপারশপগুলো থেকেও এক পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যায়। ঈদুল ফিতরের পর থেকে অবশ্য সুপারশপগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রাহকপ্রতি নির্ধারিত সংখ্যার অধিক বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করছে না তারাও। 

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মিলগেটে (পরিশোধন কারখানা) খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। আবার জ্বালানি তেলের ‘সংকটের’ কারণে পরিবহন ভাড়া কিছুটা বেড়েছে। এসবের প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারের তেলের দামে। আর বিভিন্ন ব্র্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিত তেলে আগের মতো সরবরাহ নেই। এতে তারা বাধ্য হয়েই খোলা সয়াবিত তেলের বিক্রি বাড়িয়েছেন তারা।

ঢাকার মুগদা, মানিকনগর, মতিঝিল, খিলগাঁও এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানে এক লিটার ও অধা লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল দুই-একটি দোকান ছাড়া খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ২ ও ৫ লিটারের সীমিত পরিমান বোতলজাত সয়াবিন তেল রয়েছে কিছু সংখক দোকানে। আর খোলা সয়াবিন তেল প্রতিকেজি ২০৫ থেকে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫-১৯০ টাকা কেজিতে।

মানিকনগর বাজারের বিক্রেতা আসলাম শেখ জানান, বোতলজাত সয়াবিন তেলে ডিলার পর্যায় থেকে লাভ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তারপরও আমরা কাস্টমার ধরে রাখতে বোতলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করছি। কিন্তু, অনেক কোম্পানির তেল এখন পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা তেলও ঈদের আগে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

মুগদা বাজারের সুপারশপ ‘স্বপ্ন’ ঘুরে দেখা যায়, এখানে ফ্রেশ ও তীর ব্র্যান্ডের কিছু বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। শপের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা একজন ক্রেতার কাছে সর্বোচ্চ দুটি করে বোতল বিক্রি করছেন।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত এক মাসের ব্যবধানে বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ৬ শতাংশ বেড়েছে। আর গত বছরের তুলনায় এখন খোলা সয়াবিনের দাম ১৮ শতাংশ এবং খোলা পাম তেলের দাম ১১ শতাংশ বেশি।

দেশের ভোজ্যতেল কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় গত ২৫ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তেলের দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে সরকার থেকে অনুমতি না পাওয়ায় বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়াতে পারেনি কোম্পানিগুলো।

যদিও ডিলার পর্যায়ে কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়েছে। তাতে শেষ পর্যন্ত কোন কোন দোকানে গিয়ে ভোক্তাকে আগের চেয়ে বাড়তি দামেই তেল কিনতে হচ্ছে। আর কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামে বিক্রি হলে ব্যবসায়ীরা লাভ কম থাকার অভিযোগ করছেন।

প্রায় দেড় মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে। ক্রেতারা দোকানে গিয়ে চাহিদামতো তেল কিনতে পারছেন না। দেখা যায়, ক্রেতার প্রয়োজন ১ লিটার; কিন্তু দোকানে আছে পাঁচ লিটারের বোতল। এ অবস্থায় সীমিত ও নিম্ন আয়ের অনেকে খোলা সয়াবিন তেল কেনা বাড়িয়েছেন। কিন্তু খোলা তেলেরও দাম বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।