রেস্তোরাঁ খাত বাঁচাতে ১০ দফা দাবি, লাইনের গ্যাস চালুর আহ্বান

প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ১২:২১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি সংকট ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তায় দেশের রেস্তোরাঁ খাতের সংকট নিরসনে এলপিজি সংকট সমাধান, লাইনের গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু, ভ্যাট-ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে রাখাসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

রোববার (১০ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, করোনাকালের দীর্ঘ সংকট ও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হতাশ হতে হয়েছে সবাইকে। কারণ ওই সময়ে নতুন কোনো বিনিয়োগ হয়নি, উল্টো শত শত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে, যাতে কাজ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এতে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচো সংঘাত বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে, যা বাজার ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করেছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে দেশের রেস্তোঁরা খাতে। ক্রমবর্ধমান খরচ, কমে যাওয়া ক্রেতা উপস্থিতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে রেস্তোরাঁ সেক্টর আজ এক গভীর সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। এই প্রেক্ষাপটে, জনগণের রায়ে নির্বাচিত নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, রেস্তোরাঁ সেক্টরকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১০ দাবি হলো-

১. রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দ্রুত বাস্তবায়ন।

২. আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সহনীয় মাত্রায় রেখে এর পরিধি বাড়ানো।

৩. এলপিজি সংকটের দ্রুত সমাধান এবং লাইনের গ্যাসের নতুন সংযোগ পুনরায় চালু করা।

৪. বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি বন্ধসহ অভিযান পরিচালনায় ব্যবসায়ি প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি করা।

৫. রেস্তোরাঁ সেক্টরে রাজউক, কলকারখানা, ফায়ার ও পরিবেশসহ সব অধিদপ্তরের হয়রানি বন্ধ করা।

৬. রেস্তোরাঁ সেক্টরে কর্পোরেট আগ্রাসন বন্ধ করা।

৭. রেস্তোরাঁ সেক্টরকে শিল্প ঘোষণার বাস্তবায়ন।

৮. ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও ইস্যু পুনরায় চালু করা।

৯. রেস্তোরাঁ সেক্টরে ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের জিম্মি, হয়রানি, চাঁদাবাজি সহ সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করা।

১০. গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়া।