গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দুই সপ্তাহ লাগতে পারে: জ্বালানি মন্ত্রী

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৯:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হওয়ায় গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। গ্যাস–সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে এক গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন। বৈঠকের আয়োজক বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)। এতে সরকারি–বেসরকারি নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। এই বিভ্রাটের কারণে দুটি এলএনজি কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। ফলে দেশজুড়ে রান্নাঘরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়াসহ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় এখন এলএনজি, এলপিজিসহ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আর এই আমদানি করা জ্বালানির দামও অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। গত ছয় মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করতে হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

গত ২১ জুলাই বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান টার্মিনালে। দ্রুত বন্ধ করতে গিয়ে বয়লার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এফএসআরইউ মেরামত করতে বিদেশ থেকে প্রকৌশলীদের আনা হয়েছে।

বর্তমানে প্রতিশ্রুত গ্রাহকের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। যার বিপরীতে প্রায় ৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদা বিবেচনায় কমবেশি ২৬০০ মিলিয়ন সরবরাহ দেওয়া হতো। একটি ভাসমান টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ২১৪৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। যে কারণে কয়েকদিন ধরেই ভয়াবহ গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।

এক সময়ে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২৮০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন ১৬৪৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। মজুদ কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কমে আসছে উৎপাদন। ঘাটতি সামাল দিতে ২০১৮ সালে এলএনজিআমদানি শুরু করা হয়। এ জন্য দু’টি এফএসআরইউ(ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১১’শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। একটি বন্ধ থাকায় প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে।

বাংলাদেশের গ্যাস খাত ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। বাড়ন্ত চাহিদার বিপরীতে প্রতি দিনেই কমছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন। চাইলেও সহসা আমদানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। আমদানি বাড়াতে হলে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন স্থাপন করতে হবে, যা খুবই সময় সাপেক্ষ। যে কারণে আসছে ২০২৭ ও ২০২৮ সালে গ্যাস সংকট আরও প্রকট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই সংকট দূর করতে যেসব উদ্যোগ নেওয়ার দরকার সেখানে খুব গতি দৃশ্যমান নয়।


আমার বার্তা/এমই