বিজ্ঞাপনের চুক্তির প্রলোভনে ডেকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিনেত্রী স্নিগ্ধার মামলা
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন ‘প্রেশার কুকার’-এর নায়িকা স্নিগ্ধা চৌধুরী। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে আশিয়ান গ্রুপের কার্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের অভিযোগে গতকাল রাতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছেন তিনি।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী স্নিগ্ধা জানান, একটি প্রতিষ্ঠানের ১ বছরের ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্টের কথা বলে ইমন নামের এক ব্যক্তি তাঁকে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিয়ে যান। এ সময় নায়িকার সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা। প্রাথমিক কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁর মা চলে গেলে পরিস্থিতি হুট করে বদলে যায়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান তাকে ‘জেবা তাকিয়া’ নামের অন্য এক নারী মনে করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সেই সময় ইমন পরিস্থিতি শান্ত না করে উল্টো স্নিগ্ধাকে ওই পরিচয় মেনে নেওয়ার জন্য ইশারা করেন। অভিনেত্রী দাবি করেন, জেবা তাকিয়া আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রতারণা করে বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। তিনি স্নিগ্ধাকে তাকিয়া ভেবে শারীরিক নির্যাতন করেছেন।
স্নিগ্ধা বলেন, “আমি ওই রুমের মধ্যে একা। তার যত লোকজন আছে সবাইকে বের করে দিয়েছে। আমার হাত-পা বেঁধেছে। ফোনটা ছুঁড়ে ফেলেছে। এরপর আমার গলা চেপে ধরেন। সেই রশি সম্পর্কে আমাকে বলেন, ‘এই রশি দিয়ে হাসিনা রাজাকারদেরকে ফাঁসি দিয়েছে! তারেক রহমান আইসা আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে। হাসিনা আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে। সালাউদ্দিন আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে! তোর মতো মেয়ে মরলে আমার কিছু যায় না। আমি প্রতিদিন মাটি চাপা দিয়ে রাখি’।”
অভিনেত্রী জানান, মারধরের সময় অভিযুক্তকে তিনি বলেন, আপনার নিজের সন্তান আছে, আল্লাহ রহম করেন। তখন অভিযুক্ত অভিনেত্রীর চুল টেনে ধরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাথি মারেন। যার ফলে তাঁর শরীর ফুলে গেছে।
শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-মা আমাকে জীবনে টোকা দেয়নি! আমার বাবা-মা জীবনে আমাকে একটু টোকা দেয় নাই। সে আমার চুল টেনে ধরে লাথি মেরেছে। এগুলা ফুলে ফুলে আছে। আমরা হয়তো উনার মতো এত বড় লোক না। কিন্তু আমি আমার বাপ-মায়ের কাছে রাজকন্যা!’
স্নিগ্ধা আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ওপর গরম কফি ঢেলে দেওয়া। চাকু দিয়ে মুখ কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘যদি অপরাধ করতাম তাহলে যা শাস্তি দেবেন মাথা পেতে মেনে নেব। কিন্তু বিনা কারণে অন্য মেয়ে ভেবে আমাকে কেন মারা হলো? আমার অপরাধটা কী?’
মারধরের ঘটনায় সুবিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশ করেন স্নিগ্ধা।
