‘হিরোশিমা’র চেয়েও শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা ইরানে ছুড়বেন ট্রাম্প?
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে এবং সংঘাত ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে, ঠিক তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘মিনিটম্যান–থ্রি’ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ নতুন করে উদ্বেগ ও আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ‘ডুমসডে মিসাইল’ নামেও পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্র হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার চেয়েও প্রায় ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম বলে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার রাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর বৈশ্বিক আঘাত কমান্ড ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ মহাকাশ বাহিনী ঘাঁটি থেকে নিরস্ত্র এলজিএম–৩০জি মিনিটম্যান–থ্রি ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এতে দুটি পরীক্ষামূলক পুনঃপ্রবেশযান সংযুক্ত ছিল।
এই মিনিটম্যান–থ্রি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৬ হাজার মাইল বা প্রায় ৯ হাজার ৬০০ কিলোমিটার। গত ৩ মার্চের পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝামাঝি অঞ্চলে অবস্থিত মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের কাছে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
এই পরীক্ষার পরই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে মার্কিন মহাকাশ বাহিনী জানিয়েছে, জিটি–২৫৫ নামে চিহ্নিত এই পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ দীর্ঘদিন ধরে চলা নিয়মিত মূল্যায়ন কর্মসূচির অংশ। চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
মিনিটম্যান–থ্রি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। এটি ঘণ্টায় ১৫ হাজার মাইলেরও বেশি (প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার) গতিতে ছুটতে পারে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে আঘাত হানতে সক্ষম।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র মিনিটম্যান–থ্রি ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি পরীক্ষা চালায়। সেই সময়ও ওয়াশিংটনের পারমাণবিক প্রস্তুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই ‘ডুমসডে’ মিসাইল পরীক্ষা পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
কেন মিনিটম্যান-থ্রিকে ‘ডুমসডে মিসাইল’ বলা হয়?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম বিধ্বংসী অস্ত্র হওয়ায় মিনিটম্যান–থ্রি-কে ‘ডুমসডে মিসাইল’ বলা হয়। এটি হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।
১৯৫০-এর দশকে বোয়িং এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করে। শত্রুর হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাধারণত ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী বাঙ্কার বা ক্ষেপণাস্ত্র সাইলোতে এগুলো সংরক্ষণ করা হয়।
আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মিনিটম্যান–থ্রি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে ৩০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে আঘাত হানতে পারে।
এই ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে একাধিক স্বতন্ত্র লক্ষ্যভেদী পুনঃপ্রবেশযান প্রযুক্তি। এর ফলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকেই একাধিক পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব।
মিনিটম্যান–থ্রি সর্বোচ্চ প্রায় ২৮ হাজার ৪০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলতে পারে এবং ৯ হাজার ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম।
কীভাবে আঘাত হানে ‘ডুমসডে’ মিসাইল?
কঠিন জ্বালানিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই উৎক্ষেপণ করা যায়। উৎক্ষেপণের নির্দেশ পাওয়ার পর মিনিটম্যান–থ্রি ভূগর্ভস্থ সাইলো থেকে কঠিন জ্বালানি রকেট ইঞ্জিনের সাহায্যে দ্রুত আকাশে উঠে যায়।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই এটি পৃথিবীর ওপরের বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে যায়। এরপর সর্বোচ্চ উচ্চতায় গিয়ে বায়ুমণ্ডলের বাইরে মহাকাশে প্রবেশ করে এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধাবিত হয়।
পরবর্তীতে এটি আবার বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং অত্যন্ত উচ্চগতিতে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝে কি পরমাণু বোমার পরীক্ষাও চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
শুধু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নয়, নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র কি গোপনে পরমাণু বোমার পরীক্ষাও চালাচ্ছে?
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় শতাধিক ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই রহস্যময় ভূকম্পনের ঘটনাকে ঘিরেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য গোপন পারমাণবিক পরীক্ষার জল্পনা ছড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এরিয়া–৫১-এর কাছাকাছি এলাকায় গত এক সপ্তাহে ১০০টিরও বেশি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। এই এরিয়া–৫১-এর সঙ্গে টোনোপাহ পরীক্ষামূলক রেঞ্জেরও সংযোগ রয়েছে।
অনেকের ধারণা, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র গোপনে পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত বা যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
আমার বার্তা/এমই
