পাকিস্তানে ভ্যান্স ও বাঘেরের নেতৃত্বে হবে যুদ্ধবিরতি আলোচনা
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফকে আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছে, ইরানি আলোচক দলের প্রধানের নিয়োগ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সংস্থাটি জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা এবং বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে আলোচনার বিভিন্ন দিক ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এটিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘উল্লেখযোগ্য সম্প্রীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সূত্র আরও জানায়, শিগগিরই আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার কথা বিবেচনা করে গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য প্রচার এবং অনুমানভিত্তিক বা অপ্রমাণিত খবর প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে বুধবার (৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, নির্ধারিত এই আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
এই আলোচনার ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম আগে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দিলে অসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালানোর হুমকিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে দেশটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষের দাবির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করাকে প্রাথমিক সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনায় শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, প্রায় ৪৫ বছর ধরে আরোপিত মার্কিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। এর মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি এবং সংকট-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি কার্যকর সমাধানের পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে শুক্রবার ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
আমার বার্তা/এমই
