‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ ও ইরানে হামলা হলে যুদ্ধে জড়াবে ইয়েমেন
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:২০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি আবার ইরান ও ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করে তাহলে ইয়েমেন সামরিক অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। এতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়াবে। ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে প্রেস টিভি।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রম্প এক পোস্টে দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে ‘পূর্ণ নৌ অবরোধ’ শুরু করবে এবং যে কোনো জাহাজ প্রবেশ বা বের হলে তা আটকে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এমন বিবৃতির পরেই এ ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো আগ্রাসন বা নৌ-পর্যায়ের উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানির দাম এবং পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সামরিক সংঘাতকে সমুদ্রপথে নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের ব্যর্থতাই প্রমাণ করে।
এতে ২০২৫ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে দুই দফা যুদ্ধের উল্লেখ করে বলা হয়, ট্রাম্প ও তার মিত্ররা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে উৎখাত করতে চেয়েছিল।
ইয়েমেনের মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এখন ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তিনি সফল হবেন না। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক আলোচনায় ইরানের অবস্থান ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর জন্য একটি বিজয়।
তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে যা অর্জন করতে পারেনি, তা আলোচনার টেবিলে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে, কোনো সামরিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করলে তা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পেরে হুমকির জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, হুমকির ভাষা ইরানের ওপর কাজ করে না। ইরান ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই সামরিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি।
তিনি সরাসরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি যুদ্ধ চাইলে আমরা লড়ব, আর যুক্তি চাইলে যুক্তি দিয়ে জবাব দেব। আমরা কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করব না।
শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শর্তের কারণে কোনো চুক্তি হয়নি। ইরানি প্রতিনিধিদল একাধিক প্রস্তাব দিলেও মার্কিন পক্ষ এসব প্রস্তাবের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করেছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় লেবাননে ২০৫৫ জন এবং যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানে ২০৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশ দুটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
আমার বার্তা/এমই
