কেন ভারতীয়দের বিদেশ ভ্রমণ ও স্বর্ণ কেনা কমাতে বলছেন মোদি?
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১৪:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ইরান যুদ্ধ তৃতীয় মাসে গড়ানোর পর অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ভারতীয়দের সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ কমানো, কম সোনা কেনা, জ্বালানি কম ব্যবহার করা এবং সম্ভব হলে বাসা থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
হায়দ্রাবাদের এক জনসভায় দেওয়া এই বার্তায় করোনা মহামারির সময়কার জাতীয় সংহতির আহ্বানের প্রতিধ্বনি দেখা গেছে। তবে এবার লক্ষ্য জনস্বাস্থ্য নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের মাধ্যমে অর্থনীতি রক্ষা করা।
ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং গ্যাসের প্রায় অর্ধেক আমদানি করে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আমদানি ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বেড়ে গেছে। ফলে বিমানভাড়া বেড়েছে, বিদেশ ভ্রমণ ব্যয়বহুল হয়েছে এবং সোনা আমদানি নতুন করে চাপে ফেলছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে। এ কারণে সরকার সোনা ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে।
মুম্বাইভিত্তিক ইন্দিরা গান্ধী ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ-এর অর্থনীতির অধ্যাপক রাজেশ্বরী সেনগুপ্তা বলেন, শুরুতে যেটিকে সাময়িক ধাক্কা মনে করা হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পরিণত হতে পারে। তাঁর মতে, এমন হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতও থাকবে।
ভারতের হাতে বর্তমানে প্রায় ৬৯০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে, যা প্রায় ১১ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট। তবে তেল, গ্যাস, সার ও সোনা আমদানির বাড়তি চাপের কারণে ডলারের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ কমছে এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও ধীর হয়ে পড়েছে।
ভারতের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জ্বালানির ঘাটতি নেই বলে আশ্বস্ত করলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোয় সরকারের আর্থিক চাপ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো খাতে ভারত প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে না পারায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমছে।
অনেক অর্থনীতিবিদের মতে, রুপির মান কমে যাওয়া শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল। ডলারের বিপরীতে রুপির দর ১০০ ছাড়ালে তা অর্থনৈতিক দুর্বলতার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে বাজারের ওপর পুরো চাপ না ছেড়ে দিয়ে মোদি দেশপ্রেমের বার্তা সামনে এনে নাগরিকদের স্বেচ্ছায় কম খরচ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের বার্তা স্পষ্ট-সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব না হলে চাহিদা কমাতেই হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন জ্বালানির দাম কৃত্রিমভাবে কম রাখলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধাক্কা আসতে পারে। ইতিমধ্যে চার বছর পর প্রথমবারের মতো ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সবার জন্য কম দামে জ্বালানি সরবরাহের বদলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি দেওয়াই বেশি কার্যকর হতে পারে।
আমার বার্তা/জেএইচ
