ইরানের হরমুজ প্রণালি কর্তৃপক্ষকে নিষেধাজ্ঞা দিলো যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬, ১৯:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ইরানের হরমুজ প্রণালি রক্ষণাবেক্ষন ও প্রণালি থেকে টোল আদায়কারী কর্তৃপক্ষ কমিটিকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয়। গতকাল মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রী স্কট বেসেন্ট হরমুজ প্রণালীর কর্তৃপক্ষ কমিটি গঠনকে ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি শাসকগোষ্ঠীর ‘উন্মত্ত পদক্ষেপ’ উল্লেখ করে এক বার্তায় বলেন, “বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য থেকে আইন বহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের জন্য ইরানি সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, ‘অর্থনৈতিক উন্মত্ততা’ দেশটির শাসকগোষ্ঠীকে নগদ অর্থের জন্য মরিয়া করে তুলেছে।”
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। পৃথিবীর মোট জ্বালানি পণ্যের এক পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয় এই প্রণালি দিয়ে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। পরে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচল করতে হলে টোল দিতে হবে ইরানকে।
সেই সঙ্গে বলা হয়, হরমুজে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের পতাকাবাহী কোনো জাহাজ দেখলে সেটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
পরে এ ইস্যুতে রীতিমতো আইন প্রণয়ন করে ইরানের পার্লামেন্ট। সেই আইন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি তত্ত্বাবধান ও বিদেশি জাহাজগুলোকে অবশ্যই এই প্রণালির বৈধ কর্তৃপক্ষকে টোল দিতে হবে। ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে একটি হরমুজ প্রণালি কর্তৃপক্ষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তবে শুরু থেকেই ইরানের এ পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ। তাদের যুক্তি, বৈশ্বিক সমুদ্র আইন অনুসারে কোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথের ওপর কোনো একক দেশ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে না; যদি কোনো দেশ এমন পদক্ষেপ নেয়— সেক্ষেত্রে সেটি আইনবিরোধী।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো দেশ ইরানের হরমুজ প্রণালি কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার সহযোগিতা করে, টোল প্রদান করে কিংবা কোনো উপকার বা পরিষেবা গ্রহণ করে, তাহলে সেই দেশও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।
সূত্র : রয়টার্স
আমার বার্তা/জেএইচ
