অনিরাপদ খাদ্যে বছরে ১৫ লাখ প্রাণহানি, অসুস্থ ৮৬ কোটি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ১৪:১০ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

অনিরাপদ খাদ্যের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর আনুমানিক ৮৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অসুস্থ হন এবং ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। ছোট শিশুদের ওপর ভেজাল খাদ্যের প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির নতুন হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের দূষিত খাদ্যজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বড় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। যদিও এই বয়সী শিশুরা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৯ শতাংশ তবুও খাদ্যবাহিত রোগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘটনার জন্য তারাই দায়ী বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে এসব রোগ ও মৃত্যুর অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ডব্লিউএইচও-এর মহাপরিচালক তেদ্রোস আদহানোম ঘিব্রেইসাস বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা কোনো বিমূর্ত বিষয় নয়-এটি প্রতিটি খাবার, প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে জড়িত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবীর মতো জৈবিক ঝুঁকির কারণে অধিকাংশ খাদ্যবাহিত রোগ সৃষ্টি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে রাসায়নিক দূষণের প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে খাদ্যজনিত মৃত্যুর ৭৩ শতাংশের জন্য রাসায়নিক ঝুঁকি দায়ী ছিল। বিশেষ করে অজৈব আর্সেনিক ও সিসা একাই ১০ লাখের বেশি মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। কারণ এসব উপাদান হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিবেদনটি অনিরাপদ খাদ্যের অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে খাদ্যবাহিত রোগের কারণে উৎপাদনশীলতায় ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জীবনযাত্রার ব্যয়ের পার্থক্য বিবেচনায় নিলে এ ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪৭ বিলিয়ন ডলারে।

খাদ্যের বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্যও স্পষ্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী খাদ্যবাহিত রোগের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এবং মৃত্যুর প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য দায়ী।

ডব্লিউএইচও সতর্ক করে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধক্ষমতা এবং খাদ্যব্যবস্থার বৈষম্য খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাই সংস্থাটি সরকারগুলোকে নজরদারি জোরদার, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধিবিধান আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে।