জব্দ ইরানি অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত মিত্র দেশগুলোকে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ হয়ে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ সম্পদ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন মিত্র দেশের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বণ্টনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন দাবি সামনে আসায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত হিসাব চেয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এর পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে যে, ইরানের জব্দ সম্পদ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানি সম্পদ আটকে রেখেছে। তার ভাষ্য, এই অর্থ ফেরত না দেওয়া হলে দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা চুক্তি সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সমাধানের দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়।

তবে ইরানের এই দাবির পরই বিপরীতধর্মী একটি আলোচনা সামনে এসেছে। যদিও হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেনি।

সম্প্রতি কুয়েত ও বাহরিনে ইরানের হামলার ঘটনায় প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন একটি বিশেষ মূল্যায়নকারী দল পশ্চিম এশিয়ায় পাঠিয়েছে। দলটি বিভিন্ন দেশে ইরানি হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করবে এবং কোথায় কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে সুপারিশ দেবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু জব্দ সম্পদ নয়, প্রয়োজনে অন্য উৎস থেকেও অর্থ ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে কোন ধরনের ইরানি সম্পদ বা সম্পদের উৎসকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এর জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্বার্থ ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। কুয়েত ও বাহরিন ছাড়াও সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জব্দ সম্পদ অন্য দেশগুলোর মধ্যে বণ্টনের পথে এগোয়, তাহলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। কারণ তেহরান এমন পদক্ষেপ সহজভাবে মেনে নেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। শনিবার ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলার খবর পাওয়া গেছে। রোববারও দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে সংঘাত নিরসনের উদ্যোগ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি একটি বিশেষ বার্তা নিয়ে তেহরান সফর করেছেন। চলমান সংকট নিরসনে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।


আমার বার্তা /জেএইচ