‘ককরোচ’দের বিক্ষোভের রেশ সংসদ চত্বরে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিরোধী এমপিদের
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৫:১৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ভারতে নিট পরীক্ষা নিয়ে চলমান বিতর্কের জেরে জেন-জি আন্দোলনের রেশ এবার সংসদ চত্বরেও ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভ করেছেন কংগ্রেসসহ বিরোধী এমপিরা।
এর পাল্টা বিক্ষোভে নেমেছেন ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের এমপিরাও। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের যুবসমাজকে উসকে দিচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
বিরোধী এমপিদের বিক্ষোভে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি অংশ নেন সোনিয়া গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। পুরো বর্ষাকালীন অধিবেশনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হলেও বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এ সময় তিনি এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া তৃণমূলের ২০ জন এমপিকে কটাক্ষ করে স্লোগান দেন, “বিজেপির সঙ্গে সংসদে ২০ গাদ্দার রয়েছে।”
বিক্ষোভে বিরোধী এমপিদের হাতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তারা স্লোগান দেন, “জীবন বাঁচাও, নিট বন্ধ করো।” অন্যদিকে এনডিএর এমপিরা স্লোগান দেন, “যুবসমাজকে ঘাঁটিও না, রাহুল গাঁধী জেগে ওঠো।”
একপর্যায়ে দুই পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে সংসদ চত্বর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শাসক ও বিরোধী এমপিরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় সিপিএম এমপি জন ব্রিটাস বিজেপি নেতা অরুণ সিংহের হাত থেকে একটি পোস্টার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। পরে সংসদের নিরাপত্তারক্ষীরা দুই পক্ষের মাঝখানে মানববেষ্টনী তৈরি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপরও দুই পক্ষের স্লোগান চলতে থাকে।
এদিকে বিজেপির দাবি, নিট ইস্যুতে সংসদে আলোচনায় সরকার প্রস্তুত থাকলেও কংগ্রেস আলোচনায় অংশ না নিয়ে সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করছে। তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিতর্কে অংশ নেওয়ার সাহস নেই।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লির ‘যন্তর মন্তর’-এ কয়েকদিন ধরে ছাত্র-যুবরা বিক্ষোভ করছেন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ব্যানারে জড়ো হওয়া জেন-জি আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।
এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেখেন, “প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং কর্মকর্তাদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”
তবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মোদীর ওই পোস্ট পুনরায় শেয়ার করে লিখেছে, ‘‘শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হবে।’’
অন্যদিকে মোদীর পোস্টের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘‘আপনিই আমাদের দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন। আপনি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে দখল এবং ধ্বংস হতে দিয়েছেন। এর জন্য দায়ীদের রক্ষা করেছেন এবং প্রশ্রয় দিয়েছেন।’’
আমার বার্তা/এমই
