জ্বালানি তেল আমদানি-সরবরাহে রাষ্ট্রীয় একক নিয়ন্ত্রণ বাতিল চেয়ে নোটিশ

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৮:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ‘সংকট’ নিরসনে জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির একক নিয়ন্ত্রণ বাতিল চেয়ে এ বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

নোটিশে জ্বালানি তেল মজুতদারি ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পেট্রো বাংলার আমদানির বিপরীতে বকেয়া ৩৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

জনস্বার্থে রোববার (২৯ মার্চ) মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার এ নোটিশ পাঠান। ই-মেইল ও ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র সচিব, বিপিসি চেয়ারম্যান, যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ খনিজ, তেল ও গ্যাস করপোরেশনের (পেট্রো বাংলা) চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিবাদী করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। তবে আপদকালীন সময়ের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী, মজুতদারি ও কালোবাজারিদের কারণে বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, বন্ধ থাকা অনেক পাম্পে অভিযানে হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেলের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু আইনের বিধান থাকা সত্ত্বেও কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মজুতদারি ও কালোবাজারি প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নামেমাত্র জরিমানা করায় অবৈধ মজুতদারি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে ‘ব্যক্তি পর্যায়েও মজুতদারি শুরু হয়েছে’ বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারা অনুযায়ী মজুতদারি ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার বিষয়ে বলা হয়েছে। যেখানে সর্বনিম্ন ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে। কিন্তু আইনটির যথাযথ প্রয়োগ না করায় অপরাধ বেড়েই চলছে। 

অন্যদিকে, নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও পেট্রো বাংলা বিগত বছরগুলোতে জ্বালানি আমদানির বিপরীতে রাষ্ট্রের প্রাপ্য ৩৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পরিশোধ করেনি, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থি। অবিলম্বে ওই বকেয়া আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়া জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির যে একক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে সেটিকে জনস্বার্থ এবং সংবিধান পরিপন্থি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে জনস্বার্থে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।


আমার বার্তা/এমই