পাবনা-১ ও ২ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিতে হতাশ প্রার্থী ও ভোটাররা

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

পাবনা-১ ও ২ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা নিয়ে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাবনার জেলা প্রশাসক গণ-বিজ্ঞপ্তি জারি করে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।

‎গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে নির্বাচন কমিশন থেকে পাবনার এই দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এ নিয়ে সব গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। দুপুরে আবার নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, পাবনা-১ ও ২ আসনে নির্বাচন স্থগিতের তথ্য সঠিক নয়। প্রকাশিত সংবাদ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়।


‎শনিবার (১০ জানুয়ারি) আসন ২টির নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করে ইসি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসনের সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা জেলার দুটি আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

‎নির্বাচনি এলাকা ৬৮ পাবনা-১ ও ৬৯ পাবনা-২ আসনের সীমানা সংক্রান্ত একটি মামলার কারণে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

‎নির্বাচন কমিশনের এ দুটি বার্তা নিয়ে দুটি আসনের ভোটার, প্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা, হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন এটি কারো জন্যই কাম্য নয়। সাঁথিয়া উপজেলার ভোটার আলী হাসান বলেন, আমরা হতাশ হয়েছি ইসির এমন সিদ্ধান্তে। নির্বাচনের এই সময়ে এসে স্থগিত হওয়া দু:খজনক। আমরা জটিলতার নিরসন চাই। ভোট দিতে চাই।

‎সুজানগরের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, তফসিল ঘোষণার পর সীমানা নিয়ে দ্বন্দ্ব বিব্রতকর। এমন নজির আছে বলে মনে হয় না। আমরা দীর্ঘবছর ভোট দিতে পারিনি। ভোট দেবার জন্য মুখিয়ে আছি। এমন সময় ভোট স্থগিত করা হতাশার।

‎আব্দুল মোমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একবার বলা হচ্ছে স্থগিত আবার বলা হচ্ছে স্থগিতের খবর সঠিক নয় আবার স্থগিত করা হলো। তাহলে আমরা কি বুঝবো। ধোঁয়াশা আর আইনী জটিলতা কাটিয়ে নির্বাচন হওয়া দরকার। ভোট না হলে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার সামিল বলে মনে করি।

‎পাবনা-২ আসনের ভোটার সিদ্দিকুর রহমান বলেন আমরা নির্বাচন স্থগিতের খবর শুনে হতাশ হয়েছি। আমরা চাই দ্রুত এ সব সমস্যার সমাধান হয়ে নির্বাচন হবে এই প্রত্যাশা করি। নির্বাচন৷ না হলে প্রয়োজনে রাজপথে নামব।

‎পাবনা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিন বলেন, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৬৮ পাবনা-১ ও ৬৯ পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তা স্থায়ী নয়, সাময়িক সময়ের জন্য। বিচলিত না হয়ে, সকল নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ থাকলো ধৈর্য ধরুন, সকল কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অব্যাহত রাখুন।  শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।  আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ । 

‎পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, এই সরকারকে তিনটি ম্যান্ডেড দেওয়া হয়েছে। এর একটি হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এজন্য যে সীমানাতেই হোক জনগণকে ভোট দেবার সুযোগ করে দিতেই হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মানসিক প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। আমাদের প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে এখনো যদি আসনের সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন না হয় সেটি সবার জন্যই অসুবিধাজনক। বার বার সিদ্ধান্ত বদলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে একটি সমাধানে আসা উচিত বলেও জানান এ প্রার্থী।

তিনি আরও বলেন, পাবনা-১ ও ২ এর নির্বাচন স্হগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনকে ২৪ ঘণ্টার আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে থাকুন, দোয়া করুন, আমাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতেই হবে। 

‎পাবনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাবনার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বলেন, নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে অফিসিয়ালি আদেশ পেয়েছি গতকাল, সে অনুযায়ী গণ-বিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। ৬৮ পাবনা-১ ও ৬৯ পাবনা-২ আসনের নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।

‎উল্লেখ্য, পূর্বে জেলার সাঁথিয়া উপজেলা সম্পূর্ণ ও বেড়া উপজেলার একাংশ নিয়ে পাবনা-১ ও সুজানগর উপজেলা সম্পূর্ণ এবং বেড়া উপজেলার বাকি অংশ নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা ছিল।

‎তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর শুধু সাঁথিয়া উপজেলাকে একক করে পাবনা-১ আসন এবং বেড়া ও সুজানগর উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসন গঠন করে গেজেট প্রকাশ করে। এরপর রিট আর পাল্টা রিটের গ্যাড়াকলে পড়ে আসন দুটিতে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।


আমার বার্তা/জেএইচ