বাংলাদেশে আরও বেশি হারে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়াতে চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে এই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার এবং অনেক বড় প্রকল্পে তারা বিনিয়োগ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়াতে তিনি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।

জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে এখানে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা যেহেতু একে অপরের পরিপূরক, তাই বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রদূত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিতব্য "ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার ফ্রড" জোটে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ জানান এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে "প্ল্যান অফ অ্যাকশন অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং কোঅপারেশন" সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় সেটি পুনরায় পর্যালোচনার (রিভিউ) জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বরে তাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আমার বার্তা/এমই