বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠনই তারেক রহমানের লক্ষ্য: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:২০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় অগ্রসর হচ্ছে, যার লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠন করা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আফ্রিকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরামে একব প্যানেলে এ কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় সেনেগালকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ-সেনেগাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি ১৯৮১ সালের মার্চে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেনেগাল সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘ওই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছিল।’
প্রতিমন্ত্রী জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থনৈতিক, ডিজিটাল, মানবিক ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি জনগণ, বিশেষত নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “ফ্যামিলি কার্ড” ও “কৃষক কার্ড”সহ নতুন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং “নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা” কর্মসূচি এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি বাংলাদেশে নারীশিক্ষা সম্প্রসারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য ভূমিকার কথা শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন। তিনি টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।
প্রতিমন্ত্রী ডিজিটাল অপতথ্য ও অনলাইন হয়রানির ঝুঁকি,বিশেষত নারীদের লক্ষ্য করে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব জোরদারের লক্ষ্যে একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের, বিশেষ করে সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে।
প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দেন। এর পাশাপাশি, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানের মাধ্যমে বিশ্ব মানবতার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং মানবিক দায়িত্ব, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বহুপাক্ষিক কূটনীতির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমানের প্রার্থিতার পক্ষে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন কামনা করেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী জাপানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওনিশি ইয়োহেই এবং পর্তুগালের পররাষ্ট্র ও সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আনা ইসাবেল জাভিয়ারের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, শ্রমবাজার এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া, তিনি ওমান, চাদ ও সুইজারল্যান্ডের অংশগ্রহণকারী মন্ত্রীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।
সম্মেলনের বিভিন্ন পর্ব ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং সেনেগালে নিয়োগপ্রাপ্ত বাংলাদেশের সমবর্তী রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুননেসা উপস্থিত ছিলেন।
সেনেগালের রাষ্ট্রপতি বাসিরু দিয়োমায়ে দিয়াখার ফায়ে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এতে আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
আমার বার্তা/এমই
