গণভোট প্রচার
সুজনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুদান নিয়ে প্রশ্ন
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে সুশাসনের জন্য নাগরিককে (সুজন) আড়াই কোটি টাকার অনুদান দিয়েছিল ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ’ (এবিবি)। এছাড়া প্রচারণার জন্য ডিবেট ফর ডেমোক্রেসিও ২০ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছিল।
তাদেরকে বঞ্চিত ও অনগ্রসর মানুষের সামাজিক ও শিক্ষামূলক উন্নয়নে দেশের ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) তহবিল থেকে এ অনুদান দেওয়া হয়েছিল। এ তথ্য জানিয়েছেন এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এরই মধ্যে এবিবির পক্ষ থেকে সুজন ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসিকে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে ‘সুজন’কে। বাকি ২০ লাখ টাকা ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’কে দেওিয়া হয়েছে। এ অর্থে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার ও নির্বাচনী বিতর্ক আয়োজন করা হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও পরামর্শেই আমরা এ টাকা দিয়েছি।
অন্যদিকে এ তহবিল থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে ২০ কোটি টাকা চেয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় এ টাকা চাওয়া হয়েছিল। তবে কোনো নিবন্ধিত সংগঠন না হওয়ায় এ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে এবিবি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ২০ কোটি টাকা চাওয়ার বিষয়ে মাসরুর আরেফিন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এবিবির বৈঠকে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছিল। ওই বৈঠকেই প্রস্তাবটি নাকচ হয়। এ ধরনের কোনো সংগঠনকে ব্যাংকের অর্থ দেওয়ার সুযোগ না থাকায় ব্যাংক এমডিরা আপত্তি জানান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বিষয়টি আমলে নিয়েছে। ওই বৈঠকের পর এ বিষয়ে আর কোনো কথা হয়নি।
গণভোটের প্রচারণার জন্য তহবিল দেওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ বিতর্ক চলছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই খাতে অর্থ দিতে পারে কিনা? প্রশ্ন উঠায় এ বিষয়ে অডিট তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাধারণত বঞ্চিত ও অনগ্রসর মানুষের সামাজিক ও শিক্ষামূলক উন্নয়নে দেশের ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অর্থ ব্যয় হতো। তবে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সিএসআর’র অর্থ ব্যবহার হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ মামুন রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, ভোটের প্রচার করবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন। ব্যাংকের টাকায় এই প্রচার করা ঠিক হয়নি। যে প্রক্রিয়ায় টাকা দেওয়া হয়েছে সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। - সূত্র : মানবজমিন
