এনবিআর ভেঙে দুই বিভাগ: অধ্যাদেশ যাচাইয়ে উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিটি
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিদ্যমান অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ দিতে একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে সভাপতি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ২৮ এপ্রিল ৯ সদস্যের এই কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনটি আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
এ ছাড়া জনপ্রশাসন, অর্থ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিবদের কমিটির সদস্য করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব কমিটিতে সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটিকে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ যাচাই-বাছাই করে অধিকতর প্রায়োগিক করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। কমিটি প্রয়োজনে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিটির সভা প্রয়োজন অনুসারে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দু’টি বিভাগ করে ২০২৫ সালের ১২ মে অধ্যাদেশ জারি করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার।
এর প্রতিবাদে রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নজিরবিহীন আন্দোলন করেন। এরপর ওই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজনকে ঢাকার বাইরে বদলি করে সরকার, কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেন তাঁরা।
গত ২০ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভায় এনবিআর ভেঙে নতুন যে দুই বিভাগ গঠনের কথা সেই বিভাগগুলোর দায়িত্ব ও জনবল কাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
এনবিআরকে দুই ভাগে ভাগ করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেও বিষয়টি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোকে সংশোধন করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আমার বার্তা/এমই
