জনমুখী শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের আস্থা বিনির্মাণে কাজ করছে সংসদ
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১৭:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, সংসদের মর্যাদা কেবল তার সাংবিধানিক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি মূলত নির্ভর করে জনগণের আস্থার ওপর।
বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালি-বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’ শীর্ষক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি এবং বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
স্পিকার বলেন, সংসদ পরিচালিত হয় সংবিধান ও প্রাসঙ্গিক আইনগত কাঠামো দ্বারা। সংসদ সদস্যদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কার্যাবলি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। কার্যপ্রণালি বিধি কেবল প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি দায়িত্ব বাস্তবায়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। বিশেষ করে সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন ও বিল পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সঠিক ধারণা অর্জনের জন্য কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের প্রধান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো আইন প্রণয়ন, তদারকি এবং নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা। সংসদ সদস্যদের মাধ্যমেই এই কাজগুলো বাস্তবায়িত হয়। সংসদ কেবল রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় না, বরং গঠনমূলক বিরোধী দল ও সরকারি দলের সমান দক্ষতায় কার্যপ্রণালি বিধিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। সংসদীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে ইউএনডিপি এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রতিষ্ঠান, নীতি ও পরিষেবা শক্তিশালীকরণ (এসআইপিএস) প্রোগ্রাম সংসদ-সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, মানুষের শেখার সময় দোলনা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। আজকের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে আগত কেউ শিক্ষক বা ছাত্র নন, বরং একে অপরের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সবাই শিখবেন। এই অনুষ্ঠানে কার্যপ্রণালি-বিধি, সংবিধান এবং জাতীয় সংসদের রেওয়াজ ও রীতি-নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই শিক্ষা মূলত তিনটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে; প্রথমত, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও আমরা গণতন্ত্রকে পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সক্ষম হইনি। দ্বিতীয়ত, সংসদকে আরও কার্যকর করে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং তৃতীয়ত, সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি উন্নত ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের করের টাকায় এই সংসদ পরিচালিত হয়। তাই সুশাসন, অর্থনৈতিক সংস্কার ও সর্বোপরি একটি টেকসই গণতন্ত্র কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই সংসদ পরিচালিত হবে।
দুই দিনব্যাপী এই ওরিয়েন্টেশন কোর্সের দ্বিতীয় গ্রুপে আজ সংসদ আসন ১৫১ (ময়মনসিংহ-৬) হতে ধারাবাহিকভাবে সংসদ আসন ৩০০ (পার্বত্য বান্দরবান) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এবং সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।
আমার বার্তা/এমই
