কসোভোর সঙ্গে বাণিজ্য-অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থা (ইএফটিএ) এবং সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের (সিইএফটিএ) মতো প্রক্রিয়া কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও কসোভো। কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় দেশটির শিল্প, উদ্যোক্তা, বাণিজ্য ও উদ্ভাবন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় অনুবিভাগের সচিব রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম। বৈঠকে কসোভোর শিল্প, উদ্যোক্তা, বাণিজ্য ও উদ্ভাবনমন্ত্রী মিমোজা কুসারি-লিলা উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও কসোভোর অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বিশেষ করে ওষুধশিল্প, বায়োটেকনোলজি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। উভয় পক্ষ বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সফর আয়োজনের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে একমত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কসোভোর বাজারে তৈরি পোশাক (আরএমজি), পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে কসোভোর বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউসি) গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে কসোভোর বেসরকারি খাতের একটি অনুসন্ধানী প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে কসোভো চেম্বার অব কমার্স (ওইকে) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি কসোভোতে বাংলাদেশি কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম স্থাপনের সম্ভাবনাও উঠে আসে।
কসোভোর মন্ত্রী মিমোজা কুসারি-লিলা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বাজারের নিকটবর্তী অবস্থান, অনুকূল আর্থিক নীতি, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি এবং সিইএফটিএ ও ইএফটিএ-এর মাধ্যমে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকারের কারণে কসোভো বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য। তিনি আরও বলেন, পশ্চিম বলকান অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে, এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
