শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে 

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আশ্বাসের পর জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে সরবরাহ বাড়ায় শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংকটের পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়েছে। দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ছে। ব্যবসায়ী নেতারা আশা করছেন, বুধবারের (১৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যে বেশির ভাগ শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, জাতীয় সঞ্চালন পাইপলাইনে গ্যাসের সরবরাহ ক্রমাগত বাড়ছে। ইতোমধ্যে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে শিল্প-কারখানায় সরবরাহ আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ অনেক বেড়েছে। তবে দীর্ঘ সময় কম চাপ থাকার কারণে উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার গ্রাহকের কাছে স্বাভাবিক চাপে গ্যাস পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে। মঙ্গলবার রাত অথবা বুধবার ভোরের মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

এর আগে সোমবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশ্বাস দেন। তাঁর এ ঘোষণার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। এরই মধ্যে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, মঙ্গলবার জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। বিকেল ৪টায় জাতীয় গ্রিডে ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। আগের দিন একই সময়ে সরবরাহের পরিমাণ ছিল ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের প্রকৃত পরিস্থিতি বুধবার সকালে শিল্প মালিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন অঞ্চলের কারখানা মালিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জানানো হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে এবং আগের তুলনায় অনেক ভালো চাপে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে ঢাকা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে এখনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, রাতের পর এসব এলাকায় গ্যাসের চাপ আরও বাড়বে।

গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও মোশারফ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলোতে এখনো গ্যাসের চাপ বাড়েনি। তবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের মধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ফলে শিল্পাঞ্চলগুলোতে সংকট কাটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে স্বাভাবিক চাপ ফিরে এসেছে। অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও সরবরাহ বাড়তে থাকলে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবারের মধ্যে কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস