৩২ সপ্তাহে বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

সরকার গঠনের মাত্র আট মাসে বিএনপি সরকারের তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে একজন সংসদ সদস্যও পদত্যাগ করেছেন। এসব পদত্যাগের কোনোটিই তাদের নিজেদের ইচ্ছায় হয়নি, বরং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় তারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
সবশেষ সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
গত শনিবার, রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক। অভিযানে তার নিজের হাতে এবং সঙ্গে থাকা সহযোগীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়।
অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান পরিচালনার সেই ঘটনার ভিডিও নিজের ফেসবুক পেইজে প্রচার করেন ইশরাক হোসেন। মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। কেবল সাধারণ মানুষের মাঝেই নয়, বরং বিএনপি এবং সরকারের উচ্চপর্যায়েও তীব্র অস্বস্তি ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয় এই ঘটনায়।
সমালোচনার মুখে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক।
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা, কেউ যদি মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করেন, সেটা তার যত কাছের মানুষই হোন না কেন, সে বিষয়ে তিনি যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার, সেটাই নেবেন। তিনি ইতোমধ্যে সেটা প্রমাণ করেছেন। আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।
এদিকে, ইশরাক হোসেনের আগে ৮ মাস বয়সী বিএনপি সরকারের আরও দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তারা হলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
দায়িত্ব নেওয়ার সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এদিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে তা গৃহীত হয়।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও পার্বত্য অঞ্চলে নানা আলোচনা চলে। পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে আমার বর্তমান পদ (মন্ত্রী) থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি।’
তবে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পেছনে শুধু শারীরিক অসুস্থতাই নয়, অন্য নানা কারণ নিয়েও চলে আলোচনা। বিশেষ করে পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান পদে সুপারিশকে ঘিরে মতপার্থক্য এবং রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়গুলো সামনে আসে।
এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়েও আলোচনা ছিল।
তার আকস্মিক পদত্যাগে বিস্মিত হয়েছিলেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তখন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেছিলেন, ঘটনাটি কীভাবে ঘটল তা আমরা নিজেরাও জানি না। পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে আমরা অবাক হয়েছি।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার ও তাকে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটি শহরে বিক্ষোভ করেন তার অনুসারী-সমর্থকরা। তাদের দাবি, মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
এদিকে, গত ২২ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। যদিও তাকে ওইদিনই মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগের দিন তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আন্দালিভ রহমান পার্থ। জহির উদ্দিন স্বপনের মন্ত্রিত্বও একরকম কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা আছে।
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকেও পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ১ অক্টোবর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
