নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায়: বড় অর্জন, ছোট ছোট প্রশ্ন

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল ৮টা ২১ মিনিটে ঢাকায় ফিরেছেন। চার দিনের কর্মসূচিতে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ, ৩০টি সরকারি কর্মসূচি যার মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক—কাজের হিসাব বেশ ভারী। অভিনন্দন 
 

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কের ব্যস্ততার মধ্যেই ওয়াশিংটন শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে বলেছে, বিষয়টি ঢাকা ও দিল্লির আলোচনার ওপরই ছেড়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্য ডেইলি স্টার এটিকে ঢাকার বর্তমান ব্যবস্থার প্রতি ওয়াশিংটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখেছে। কূটনীতির মজাই আলাদা—সোজা কথা বলার চেয়ে কখনো কখনো না-বলা কথাটিই বেশি জোরে শোনা যায়।

এর মাঝেই বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি হলো। রূপপুরের পরমাণু অধ্যায়ের সঙ্গে এই সহযোগিতা জ্বালানি নিরাপত্তার দীর্ঘ হিসাবটিকে আরও বড় করল। ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ নিয়ে এত আয়োজন দেখে আজকের পেট্রল অবশ্য একটু ঈর্ষা করতেই পারে—তার দাম তো ভবিষ্যৎ নয়, একেবারে আজই দিতে হয়। সম্পাদকীয় পাতায় তাই জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি সরকারি ক্রয় ও জবাবদিহিতার প্রশ্নও উঠেছে।

ঘরের খবরও কম রোমাঞ্চকর নয়। মিরপুরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার খবরটি বিশেষভাবে অস্বস্তিকর—যেখানে মানুষের চিকিৎসা হওয়ার কথা, সেখানে যদি হাতুড়ি আগে পৌঁছে যায়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা-ব্যবস্থার রিপোর্ট কার্ড খুব উজ্জ্বল দেখায় না। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অস্ত্রধারীদের স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনাও একই প্রশ্ন তোলে: নাগরিকের নিরাপত্তা কি তার পেশা ও পকেট দেখে আলাদা হয়?

সামাজিক মাধ্যমে আজ দুই রকম উত্তাপ। জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভাষণ ও বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশংসা ও আলোচনা চলছে; অন্যদিকে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ঠেকাতে ভোক্তা অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানও ভাইরাল। মানুষ অভিযান দেখতে চান, তবে অভিযান যেন ফেসবুকের ভিডিওর আয়ু না পায়—সেটিই আসল কথা। কারণ বাজারে সিন্ডিকেট খুব পুরোনো প্রাণী; দুদিনের অভিযানে সে সাধারণত বিলুপ্ত হয় না, একটু লুকিয়ে থাকে।

সম্পাদকীয় পাতার আরেকটি সুর গণতন্ত্র, সংস্কার ও জবাবদিহিতা। বড় বড় সংস্কারের কথা শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু গণতন্ত্রের আসল পরীক্ষা হয় ছোট জায়গায়—সরকারি অফিসে, থানায়, হাসপাতালে, বাজারে। সেখানে নাগরিক যদি নিয়মের দেখা পান, তবেই সংস্কারের গল্পটি বিশ্বাসযোগ্য হয়। রাষ্ট্রের সাহিত্য শেষ পর্যন্ত কাগজে নয়, আচরণে লেখা হয়।

দূরদেশেও রবিবার খুব শান্ত নয়। গ্রিসে ভবন ধসে ছয়জনের মৃত্যু, আর টানা বৃষ্টিতে ব্যাংককের বহু এলাকা পানির নিচে। প্রকৃতি মাঝে মাঝে মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—সভ্যতা যত উঁচু ভবনই বানাক, ছাদ ফুটো হলে ছাতা কিন্তু এখনো পুরোনো জিনিসই। সপ্তাহের প্রথম সকালে তাই আমাদের হিসাবটিও খুব জটিল নয়: কূটনীতি চলুক, পরমাণু শক্তির ভবিষ্যৎ তৈরি হোক, সংস্কার এগোক; শুধু বাজারে মানুষ যেন ঠকে না, হাসপাতালে নিরাপদ থাকে, আর আইনের দরজাটি যেন সবার জন্য একই থাকে। সবশেষে বলতে হয়—রাষ্ট্রবিজ্ঞান ভারী বিষয়, কিন্তু নাগরিকের চাহিদা বেশ হালকা: একটু নিরাপত্তা, একটু স্বস্তি, আর মাসের শেষে পকেটে কিছু টাকা।