ভালো লেখা- মানুষে আলোকিত সমাজ

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০:০২ | অনলাইন সংস্করণ

  হামিদুল নাসির

আমি বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি আপনার লেখার হাতে আলো আছে। যখন আপনি ভালো লিখেন, যখন আপনার মেধা মননশীল চিন্তার গভীরে ডুব দেয়, আমি মুগ্ধ হই। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে উঠে আসা আপনার প্রতিটি লেখাকে আমি সাদরে গ্রহণ করি। বইয়ের পাতায় আপনার অটোগ্রাফ দেখলে আমার ভালো লাগে ,মনে হয়, সৃষ্টি তার স্রষ্টাকে ছুঁয়ে আছে। আপনার সৃজনশীলতা আমার ভেতরে আলোর সঞ্চার করে, আমি পুলকিত হই।

বাজারে যেমন সস্তা পণ্য থাকে, তেমনি দামী পণ্যও থাকে। আমি ব্যক্তিগতভাবে দামের হিসেব করি না। আমি হিসেব করি প্রভাবের, এই পণ্যটি, এই লেখাটি আমার সমাজে কতটা আলো ফেলল, কতটা অন্ধকার সরালো।

কবি তো তার ভেতরের মানুষটাকে উন্মোচন করেন। মস্তিষ্কের ভেতরে ঘুরপাক খাওয়া অস্থির শব্দগুলোকে যিনি সুন্দর করে মালা গাঁথতে পারেন, তিনিই তো মহান লেখক, মানুষের ভালোবাসার কবি। কবি সমাজের কথা বলেন, মানুষের বন্ধনের কথা বলেন, তার লেখা দিয়ে পরিবর্তনের স্বপ্ন বোনেন।

কিন্তু আপনার সৃষ্টি যতই ক্ষুরধার হোক না কেন, সবকিছু মিথ্যে হয়ে যায় যখন আপনি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ভালো মানুষের অভিনয় আর ভালো মানুষ হয়ে ওঠা এক নয়। লেখা দিয়ে শুধু পরিচয় হয় না। লেখা এবং সমাজে আপনার আচরন, এই দুইয়ের মিলনেই একজন লেখকের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে।

আমরা তো এই সমাজেরই অংশ। একই পথে বহুদিন একসাথে হেঁটেছি। জীবনের কত মূল্যবান সময় এই সমাজেই কাটিয়েছি। গোপনে প্রকাশ্যে এমন অনেক কিছুই আমরা করি, যা ব্যক্তিগতভাবে এবং সামাজিকভাবে লজ্জার। তবুও আমরা একসাথে চলি, কারন এটাই আমাদের সমাজ।
হঠাৎ করে এত জ্ঞানী হয়ে গেলে যে মুশকিল। এই সমাজের নেতা, সমাজকর্মীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা কতটা শোভন? সেই যোগ্যতা কি আমরা সত্যিই অর্জন করেছি? 

আপনার চরিত্রে এমন কী পরিবর্তন এলো যে আপনি সবাইকে কঠোর ভাষায় জ্ঞান বিতরণ করতে শুরু করলেন? সমাজকে চ্যালেঞ্জ করে, সমাজের মানুষকে চ্যালেঞ্জ করে কী এমন বড় অহি আপনি লাভ করলেন যে আপনার লেখায় অশালীন শব্দ আর দাম্ভিকতার গল্প ভর করে?
নিজের পাপের তালিকাটা একবার ভালো করে দেখে, বুঝে, তারপর না হয় সমাজকে চ্যালেঞ্জ করবেন। তাতে সমাজ উপকৃত হবে। দ্বন্দ্ব থেকে সমাজ রক্ষা পাবে। 

আপনাদের কারনেই  তো সমাজে বিভক্তি তৈরি হয়, আর সেই দোষ অন্যের ঘাড়ে, সমাজের নেতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে আপনারা ভালো মানুষ সাজেন। এই সমাজে ভালো মানুষ আমরা দেখেছি। আবাইয়ে জয়ী হতে না পেরে কে আবাইকে ধ্বংস করতে চায়, তাও আমরা বারবার দেখেছি। এই সমাজের চরিত্র আমরা সবাই জানি। এখানে পরকীয়া থেকে অর্থ আত্মসাতের গল্প আমরা জানি। এখানে বুনিয়াদি লেখক কে, তাও আমরা জানি। অন্ধ রাজনীতির খেলায় হাই কমিশনসহ কে কে সমাজে বিভেদের বীজ বুনেছিল, তাও আমরা জানি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত কমিটিকে কোন দল পাত্তা দেয়নি, সে ইতিহাস খুব বেশি দূরের নয়। তাদের কে কে সহযোগিতা করেছিল, তাও আমাদের জানা। ৫ই আগস্টের পর আবাইকে জনগণের সংগঠনের রূপ কোন রাজনৈতিক শক্তি দিয়েছে, সেটাও মানুষ জানে।

কোন কষ্ট থেকে বিষের বাঁশি আজ ফেসবুকে বাজছে, তা আমরা অনুধাবন করতে পারি। আমরা আবাইয়ের পক্ষে ছিলাম, জনগণের পক্ষে ছিলাম, এখনো আছি, আশা করি ভবিষ্যতেও থাকবো। আমরা আবাইয়ের জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির সাথে কাজ করবো। ব্যক্তি নয়, সংগঠনের সাথে কাজ করাই প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিটি নেতা, কর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের একসাথে কাজ করা উচিত। তাতেই সমাজের উন্নতি সম্ভব, এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

নিজের চরিত্রের দিকে না তাকিয়ে, নিজের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে অন্যের সমালোচনা করা সবচেয়ে সহজ কাজ। অন্যকে অপমান করে দু চার কলম লিখে দিলেই বিশাল লেখক হওয়া যায় না। লেখার সাথে সাথে নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিকেও খেয়াল রাখা উচিত। তীর চূড়ার আগে ভেবে দেখা দরকার। 

আসুন, ভালো হই। ভালো চিন্তা করি, ভালো সমাজ গঠনে সহযোগিতা করি, অন্যের প্রতি হিংসা থেকে বিরত থাকি। দেখবেন, আপনার আমার মনে শান্তি আসবে, ভালো লাগবে, সম্পর্কের উন্নয়ন হবে। আপনার ন্যায্য পাওনা সম্মান আপনি এমনিতেই পেয়ে যাবেন।
সুন্দর হোক আমাদের কল্পনার জগৎ। সুন্দর হোক আমাদের এই সমাজ। 

লেখক : রাজনীতিবিদ ও প্রবাসী