জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড নিয়ে সংসদে দুই দফায় বিতর্ক

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ১৯:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের বিতর্ক

বিগত ২০২৪ সালের জুলাই আগস্ট আন্দোলনের কে নায়ক, কে মাস্টারমাইন্ড– এ নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি যুক্তি তুলে ধরেছেন। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে দুই দফায় বিতর্ক চলে।

রোববার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ‘জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন তারেক রহমান’ মন্তব্য করলে এই বিতর্ক শুরু হয়। এরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন এবং এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ বলে উল্লেখ করেন।

দুপুরে সংসদ অধিবেশন মুলতবির পর বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হলে সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন এবং কিছু তথ্য তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের পর বিরোধী দলের নেতা পাল্টা বক্তব্য দেন।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সংসদ সদস্য রশিদুজ্জামান মিল্লাত তার বক্তব্য রেখেছেন এবং বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমাদের বিরোধীদলীয় নেতার একটি বক্তব্যকে উল্লেখ করেছেন। উনি তার পরপরই মাইক নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন।

আমি এখানে বলতে চাই যে, প্রথমে বাংলাদেশের যে ২৪-এর ৫ আগস্ট যে বিপ্লব, জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে— প্রথমেই বিএনপি এবং তারেক রহমানই বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক এ দেশের জনগণ। বিরোধীদলীয় নেতা অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি, একটি দলের আমিরও এবং আমরা সম্মানের সহিত উনাকে বলতে চাই– গত ২৪ এপ্রিল মগবাজারে একটি ১২ দলীয় সভায় আপনিই বলেছেন, তারেক রহমানই মহানায়ক এই জুলাই বিপ্লব আন্দোলনের, প্রধান নায়ক, আপনিই বলেছেন।

সরকার দলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, সে কারণে আমি এখানে রেকর্ড রাখতে চাই যে, মিল্লাত যেটা বলেছেন, এটা সত্য কথাই বলেছেন। এটা রেকর্ডে থাকুক। উনার বক্তব্যে তারেক রহমানই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূল নায়ক, এই কথাটা উনিই বলেছেন। তাই আমি এটাকে এই সংসদে রেকর্ডে রাখতে চাই।

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, উনার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। উনি যা বলেছেন সত্য বলেছেন। আমি উনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমি বলেছি যে টাইমটা শুধু, ডেটটা সঠিক নয়। আমরা জেলে ছিলাম। একসঙ্গে এখানে এই হাউজে অনেকেই আছেন আমরা যারা জেলে ছিলাম। ২৪-এর ইলেকশনের পরে আমরা জেল থেকে বের হই। বের হওয়ার পরে লেডিস ক্লাবে, সেই রমজানে বিএনপির একটা ইফতার মাহফিল ছিল। এটা ১২ দলের নয়। সেই ইফতার মাহফিলে আমিও দাওয়াত পেয়েছিলাম। সেখানে তারেক রহমান সাহেব— এটা ১২ দল হোক আর বিএনপি হোক— তারেক রহমান সাহেব, তিনি ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ওই ইফতার মাহফিলে আমি বক্তব্য রেখেছিলাম এবং তিনি যা বলেছেন সত্যই বলেছেন। আমি তাই বলেছি। মিল্লাত সাহেব বলেছিলেন যে এটা ৫ আগস্টের পরপর। আমি বলেছি ওইটাই কারেকশন। ৫ আগস্টের পরপর নয়। ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট ভিন্ন, বদলে গেছিল তখন। তখন যাদের এই ব্যাপারে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত, তাদেরটাই আমরা দিতে চাই। সেই উপলক্ষ্যে আমি আমেরিকার একটা কথাও এখানে এনেছি। ড. ইউনূস যখন অনেককে নিয়ে আমেরিকায় গিয়েছিলেন, সেখানে একজন ব্যক্তিকে তিনি মাস্টারমাইন্ড বলেছিলেন। আমি প্রথম প্রতিবাদ করে বলেছিলাম যে, এই অভ্যুত্থানের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা কোনো ব্যক্তিকে মানি না। এটাই ফ্যাক্ট। আগেও বলেছি, এখনও বলছি, বলতেই থাকব।

এর আগে রোববার সকালে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই যে, বাংলাদেশের এই যে বাজেট সম্পর্কিত আলোচনায় আমরা অনেকেই অনেক কথা বলেছি। বাজেটের ঘাটতি নিয়ে কথা বলেছি। এই ঘাটতি পূরণে আমার বিশ্বাস, তার যে দৃঢ়তা, তার যে দক্ষতা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর, এই ঘাটতি পূরণেও আর কোনো অসুবিধা হবে না। কীভাবে পূরণ করবেন তিনি জানেন। কারণ আমাদের এই গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা তিনি একটি কথা বলেছিলেন এই আন্দোলনের সম্পর্কে। আমাদের এই আন্দোলনের প্রধান নায়ক, আমি তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি– তারেক রহমান, আজকে সংযুক্ত হয়েছেন। তিনি দূরে থেকেও জাতিকে অত্যন্ত বুদ্ধিভিত্তিক ও সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি নেতৃত্ব দিয়ে গণঅভ্যুত্থান থেকে সফল করে আজকে আমরা এই জায়গায় এসেছি ইনশাআল্লাহ। এটা তার মুখের কথা, কাজেই আজকে যে এই বড় ধরনের বাজেট নিয়ে আপনারা চিন্তিত আমাদের বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দ, আপনাদের এই চিন্তার কোনো কারণ নেই।

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মিল্লাত সাহেব, উনি আমার একটা বক্তব্যের উদ্বৃতি দিয়েছেন। হ্যাঁ আমি বক্তব্য রেখেছি কিন্তু সময়টা আপনি সঠিকভাবে বলেননি। এই সময়টা ছিল ২৪ সালের এপ্রিল মাস। আর পরিবর্তনটা হয়েছে ২৪ এর আগস্টে। আগস্টের ৫ তারিখের পরে আমার এই বক্তব্য। ওই সময় যাদের নেতৃত্বে এই অভ্যুত্থান সফল হয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা সবাই অন্তর থেকে তাদেরকে সম্মান করি, ভালোবাসি। তাদের এই জায়গাটা ঠিক রাখতে হবে। এমনকি ড. ইউনূস আমেরিকায় গিয়ে একজনকে মাস্টারমাইন্ড বলেছিলেন। আমি সেই ব্যক্তি প্রথমে প্রতিবাদ করে বলেছি, এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না। আমাদের যুবসমাজকে কৃতিত্ব দিতে চাই। আর মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।


আমার বার্তা/এমই