লজ্জা থাকলে তিনি ভারতে গিয়ে আত্মহত্যা করতেন: হাসিনাকে সারজিস
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:১২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

শেখ হাসিনার ন্যূনতম লজ্জা থাকলে ভারতে গিয়ে আত্মহত্যা করতেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শনিবার (১১ জুলাই) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে এনসিপির আয়োজিত জুলাই পদযাত্রায় এই বক্তব্য দেন তিনি।
তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো স্বৈরাচারের পতন হওয়ার পরে, পৃথিবীর হাজার হাজার বছরের ইতিহাসে কেউ কোনোদিন ফিরে আসে না৷ এই বাংলার ইতিহাসে সর্বশেষ লক্ষণ সেন পালিয়ে গিয়েছিল, তিনি কোনোদিন ফিরে আসেন নাই। বিগত ৮০০ বছরের ইতিহাসে শেখ হাসিনার মতো এভাবে আর কেউ কখনো পালিয়ে যায় নাই। তার যদি ন্যূনতম লজ্জা থাকতো, ব্যক্তিত্ব থাকতো, তাহলে ওই মুখ দেখানো তো দূরের কথা নিজে ভারতে গিয়ে আত্মহত্যা করতেন। পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানিরাও এত লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হয় নাই। ব্রিটিশ আমলে ব্রিটিশরাও এত লজ্জাজনকভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় নাই।
সারজিস আলম বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত ২৩ বছরে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে তিনি বাংলাদেশে আসার পর ৭২ থেকে ৭৫-এ যে মানুষটি হতে পারতো অসংবাদিত নেতা সেই মানুষটা ধীরে ধীরে স্বৈরাচারের বীজ বপন করা শুরু করলো৷ বাংলাদেশে প্রথম স্বৈরাচারের বীজ ৭২-এর ১০ জানুয়ারিতেই বপন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ২৪ গণ-অভ্যুত্থানের আগে বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোকে আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করে। কোন সংবাদ যাবে কোনটা যাবে না, কোনটা আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গাইবে, কোনটা একজন আলেমের ওপর অত্যাচারকে জঙ্গিবাদ হিসেবে দেখাবে সব শেখ হাসিনা ও তার পেটোয়া বাহিনী স্ক্রিপ্ট লিখে দিত। এই অভ্যুত্থানের আগে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান দাড়ি টুপি রাখতে শঙ্কাবোধ করতো। এই ফ্রেমিংগুলো করা হয়েছে মিডিয়াকে দিয়ে।
তিনি বলেন, আমরা অভ্যুত্থানের পর কিছুদিন মিডিয়াকে ঠিক ঠাক পেয়েছি। কিন্তু আমরা আবারও দেখছি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল মাঠ পর্যায়ের যারা আমাদের ভাইয়েরা আছেন সংবাদকর্মী, তারা কিন্তু ঠিক মতো মাসের বেতন পাই না। তাদের পরিবার ঠিকমতো চলে না। তারা যে নিউজগুলো পাঠাই সেগুলো কভার হয় না। কিন্ত মূল গদিতে বসে থেকে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতারা গিয়ে আসল সত্য সংবাদ প্রচারে আবার বাধা হয়ে দাঁড়াতে শুরু করেছে। এভাবে একটি দেশের স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম কোনোদিন বিকশিত হতে পারে না।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে সারজিস আলম আরও বলেন, একটা নির্বাচিত বিএনপি সরকার এসেছে। আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। কিন্ত আপনারা লক্ষ্য করেন বিগত সাড়ে চারমাসে যত ধরনের সরকারি সুযোগ সুবিধা কার্ড থেকে শুরু করে অনান্য অনেক কিছু যা কিছু এসেছে, সব কিছু বিএনপির নেতা-খেতাদের মাধ্যমে বিএনপির ভোটারদের দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে কি আর অধিকার বঞ্চিত মানুষ নাই। বিএনপি কি শুধু বিএনপির সরকার নাকি বিএনপি এই বাংলাদেশের সরকার।
তিনি বলেন, যে সব চুরি চামারি হচ্ছে, লুটপাট, চাঁদাবাজি হচ্ছে। এমন অনেক রাস্তার টেন্ডার দেওয়ার আগে, ইঞ্জিনিয়ার কাজ শুরু করার আগে ওই এলাকার কিছু নেতা-খেতাকে আগে টাকা দিতে হয়। ভাগ বুঝিয়ে দেওয়ার পরে কাজ শুরু করা যায়, তা না হলে কাজ শুরু করা যায় না। এই উপজেলায় হয়ত ৫ বা ১০টা বিএনপির লোক এই ধরনের ধান্দাবাজি করে, চাঁদাবাজি করে, বিভিন্ন জায়গায় জমি দখলের চেষ্টা করছে, মাদক কারবারিদের শেল্টার দিচ্ছে, জমি দখলের পেছন থেকে শেল্টার দিচ্ছে। কিন্তু তার জন্য বাকি হাজার হাজার লোক দুর্নাম কেন নেবে? তাই বিএনপির ভাইদের বলতে চাই, ক্ষমতায় আজকে আছেন কালকে নাই, কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার সন্তান যে স্কুলে যায় সেই ম্যানেজিং কমিটি যদি স্কুলের টাকাগুলো চুরি করে তাহলে আপনার সন্তানের ভবিষ্যতও শেষ হয়ে যাবে। তাই আপনাদের কাছে আহ্বান থাকবে, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মাদককারবারি যে দলেরই হোক তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।
