ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি যে কোনো সময়, আলোচনায় একাধিক ছাত্রনেতা
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নতুন কমিটিও যে–কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ায়, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত ঢাবি শাখার নতুন নেতৃত্ব নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাবি শাখার নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
বর্তমান ঢাবি ছাত্রদলের কমিটি ২০২৪ সালের মার্চে, গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি ও নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য গঠন করা হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণে তা পিছিয়ে যায়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতা আলোচনায় রয়েছেন। ২০১৩-১৪ সেশন থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান ও গাজী মোহাম্মদ আল-আমীন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের নাম সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছে।
এছাড়া, ২০১৪-১৫ সেশন থেকে বিজয় একাত্তর হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বি এম কাওসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ খান ও আলমগীর হোসেন আলমের নামও আলোচনায় রয়েছে।
২০১৫-১৬ সেশন থেকে যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় ও আবিদুল ইসলাম খান এবং ২০১৬-১৭ সেশন থেকে সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান, প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসান ও শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছে।
২০১৭-১৮ সেশন থেকে আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক ও সাইফুল্লাহ সাইফের নামও আলোচনায় রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানসহ সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে এবং নতুন কমিটি গঠনে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব থাকবে না।
পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান বলেন, নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের নেতা তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হলো : মেধা, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সমন্বয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অনুকরণীয় ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্বই সংগঠনের প্রত্যাশা।
আরেক পদপ্রত্যাশী যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম বলেন, দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পর্ক প্রত্যাশিতভাবে গভীর হয়নি। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রাখা নেতৃত্বই এখন প্রয়োজন।
সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিলেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান মূল্যায়নের সময় এসেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে এবং যারা সংগঠনের প্রতি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা দেখিয়েছেন, তারাই নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
ছাত্রদলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, এবারের নেতৃত্ব নির্বাচনে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত শিক্ষার্থী ও বিতর্কমুক্ত নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমার কাছে অফিসিয়ালি কমিটির তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে। এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া।
