স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বিএনপি
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও মনোনয়ন না থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলটির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে একক সমর্থিত প্রার্থী রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এটি দলীয় নির্বাচন না হওয়ায় বৈধ প্রার্থী হিসেবে আইন অনুযায়ী যোগ্য যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
আওয়ামী লীগ তো এখন অনেকটা বিচ্ছিন্ন, দণ্ডনীয় আছে, কার্যক্রমও নিষিদ্ধ। সব দলের অংশগ্রহণ যাতে একটা ফ্রি-ফেয়ার নির্বাচন হয়, ইউকে এরকম কোনো বিষয় দেখতে চেয়েছে কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, না, তারা বলেনি। এটা তো দলীয় নির্বাচন না। এখানে দলীয় নির্বাচন যেহেতু না, এখানে দলের প্রশ্ন আসছে কেন? এখন সাধারণভাবে কে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, না করবে। যারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তারা করতে পারবে, এতে কোনো সমস্যা নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে দলীয়ভাবে তো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগই নেই। কারণ দলীয় মনোনয়নও থাকছে না, দলীয় প্রতীকও থাকছে না। তবে স্থানীয়ভাবে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্থানীয় বিএনপি সমর্থন দেবে। স্থানীয় বিএনপি, আমাদের উপজেলা বিএনপি, তারা একটা সমর্থন দেবে, এই ইউনিয়নে আমাদের সমর্থিত প্রার্থী কোন ব্যক্তি। আমাদের দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী থেকে একটা নির্দেশনা দেওয়া আছে যাতে স্থানীয় বিএনপি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সব ইউনিয়নে একক প্রার্থী রাখার জন্য, সমর্থিত প্রার্থী।
দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না কিন্তু কোনো এলাকায় যদি কেউ চেয়ারম্যান পদে দাঁড়ান, তিনি কোন দলের এটা সবাই জেনে যায়, আওয়ামী লীগের না বিএনপির না জামায়াতের না এনসিপির। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ যারা করতো, তারাও তো অনেকে দাঁড়াবেন, তখন বিএনপির অবস্থান কী হবে? তার ফিল্ডটা কি লেভেল হবে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো আলাদা অবস্থান নেবে না এই নির্বাচনে। এই নির্বাচনে সরকারের ভূমিকা থাকবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করবার জন্য সহযোগিতা করার জন্য। নির্বাচনে যেহেতু দলীয়ভাবে হচ্ছে না, বৈধ প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করবে তাদের নিরাপত্তা দেওয়া, নির্বাচনে তাদের যাতে সঠিকভাবে তারা প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারে, নির্বাচন কমিশনকে লোকাল প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসন সহযোগিতা করবে।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের মেসেজ ক্লিয়ার। যেহেতু এটা দলীয় নির্বাচন না, এই নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে যাদের যোগ্যতা আছে আইন অনুযায়ী, সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবে। নির্বাচনটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ করবার জন্য যা যা করার প্রয়োজন, জনগণের সরকার এবং সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি আমাদের প্রতি নির্দেশনা আছে।
এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আবার রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, এটার সঙ্গে এ প্রশ্নের উত্তর আমি দেখছি না, খুঁজে পাচ্ছি না।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সাক্ষাৎ ইস্যুতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশদের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন। উন্নয়ন সহায়তাকারী একটি দেশ। অতীতে তারা যেরকম উন্নয়ন সহায়তাকারী রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের পাশে ছিল, বর্তমানে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি বলেন, আর দুই-একটি আলাদা বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। সেটি হচ্ছে আমাদের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। তারা আমাদের সহায়তা করতে চান। বিশেষ করে মেডিকেল ওয়েস্ট, এটার ম্যানেজমেন্টে তারা সিটি কর্পোরেশনগুলোতে কাজ করবে। এর বাইরেও যে ওয়েস্ট আছে, সেটা নিয়েও কাজ করতে চায় এবং ওয়েস্ট টু এনার্জিতে তারা ইনভেস্ট করতে চায়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার অর্থবছরের যে মাস চেঞ্জ করেছে এবং তাদের সরকারের সঙ্গে সেটা মিল আছে, এই কারণে তারা অভিনন্দন জানিয়েছে। বলছে যে এটা সামারের সঙ্গে, শুষ্ক মৌসুমের সঙ্গে মিল আছে। ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কটা আগে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটা সহযোগিতা করবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উনি আমাদের জিজ্ঞাসা করেছেন যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ন্যাশনাল নির্বাচনের মতো ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল হবে কিনা। আমরা বলেছি যে এটা করবার জন্যই আমরা আইন সংশোধন করেছি। এবং আইন সংশোধন করে এই নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে আর হচ্ছে না। এটি সাধারণ নির্বাচন হবে এবং দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না এবং দলীয় কোনো প্রতীকই নির্বাচনে থাকবে না।
তিনি বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত বদ্ধপরিকর এবং শেষ পর্যন্তও থাকবে যে, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন, পাঁচটি নির্বাচনই এই অর্থবছরে আমরা শেষ করবো। সব নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করবো।
তিনি বলেন, ব্রিটিশ ইনভেস্টররা এখানে ইনভেস্ট করতে চায় পিসিপি মডেল। ওয়েস্ট টু এনার্জিসহ আরও অনেক বিষয়ে তারা ইনভেস্ট করার জন্য আসবে এবং সে ব্যাপারে তারা আমাদেরকে একটা টিম করে দিতে বলছে যে আমাদের একজন এডিশনাল সেক্রেটারির নেতৃত্বে যেন তাদের সঙ্গে অফিশিয়ালি যোগাযোগ করে।
