চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন ১২৩ বছরের বৃদ্ধ 

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

  নাটোর প্রতিনিধি

শুনতে অবাক লাগতে পারে তবে এটাই সত্য, চশমা ছাড়াই কোরআন তেলাওয়াত করেন ১২৩ বছরের বৃদ্ধ আব্বাস প্রামানিক। ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী তার বয়স ১২৩ বছর। নাম আব্বাস প্রামানিক। তবে পরিবার দাবি, তার বয়স আরো বেশি। নিয়মিত নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত করেন তিনি। 

অবাক করার বিষয় হলো, ১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়াই খালি চোখে কোরআন শরিফ পড়তে পারেন তিনি।  বয়সের ভারে কিছুটা কাহিল হলেও চোখের দৃষ্টি সেই আগের মতই রয়েছে তার। 

আব্বাস প্রামানিকের বাড়ি নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামে। তিনি কর্মজীবনে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। দুই মেয়ে ও ৬ ছেলে সন্তানের বাবা তিনি। 

পরিবার থেকে জানা যায়, ৬০ টাকা বেতনে প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন তিনি। পাশাপাশি এলাকায় বিনামূল্যে ছেলে-মেয়েদের দিয়েছেন কোরআন শিক্ষা। 

তার দীর্ঘ জীবনে দেখেছেন ব্রিটিশদের শাসন, পাকিস্তানি আমল আর ৫২ এর ভাষা আন্দোলন। বয়সের ভারে শত বছরের অনেক স্মৃতিই এখন তার মনে নেই। চোখে স্পষ্ট দেখতে পেলেও কানে শুনতে পান কম। বাতাসা, গরুর দুধ ও মুসুর ডাল প্রিয় খাবার। 

এক সময়ে অনেক অর্থ সম্পদ থাকলেও এখন ভাঙা একটি ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে তাকে।  নাতি বউয়েরা করেন সেবা যত্ন। নিজের কাজ নিজেই করতে পছন্দ করেন। সহযোগিতা ছাড়াই আব্বাস প্রামানিক নিজেই কাপড় পরিধান করেন। গাড়িতে চড়া বিলাসিতা মনে করতেন, তাই জীবনে পায়ে হেঁটে চলাচল করেছেন। উঠেননি যানবহনে। 

নাতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ভোটার আইডি কার্ডে যে বয়স রয়েছে, তার চেয়ে আরো বেশি বয়স দাদার। তিনি বিলাসিতা পছন্দ করেন না, এ কারণে পায়ে হেঁটে যাতাযাত করেছেন জীবনে। একজন ধার্মিক মানুষ, কখনো কারো অন্যায় করেননি। সৎ ভাবে জীবন-যাপন করেছেন দাদা। বর্তমানে তার বয়সের কারণে তিনি তেমন চলাফেরা করতে পারেন না। 

মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, পাঁচ বছর বয়সে আমার মা মারা যান। এরপর বাবার কাছে বড় হয়েছি। আমরা কখনো বাবাকে কারো সঙ্গে অন্যায় করতে দেখিনি। তিনি সৎ ভাবে চলাচল করেছেন। কোথাও গেলে পায়ে হেঁটে যেতেন, গাড়িতে উঠতেন না। খুব স্বাভাবিক ভাবে জীবন চালিয়েছেন। ভাইয়ের ছেলেদের কাছে বাবা থাকেন, তারাই দেখাশোনা করেন। মাঝে মধ্যে বাবাকে দেখতে যাই, তার প্রিয় খাবার দিয়ে যাই। এত বছর বয়সেও আমার বাবা চশমা ছাড়া কোরআন পড়েন।  অথচ আমরা তার সন্তান হয়ে এখনই কিছুটা ঝাপশা দেখতে পাই।

গুরদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, আব্বাস প্রামানিক গুরুদাসপুর উপজেলার প্রবীণ একজন ব্যক্তি। তার বয়সের ভারে তিনি তেমন চলাফেরা করতে পারেন না। তার চলাচলের সুবিধার্থে ঘরের সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন খুবজিপুর প্রবীণ সেবা কেন্দ্র। উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময় তাকে সহযোগিতা করে আসছে।