যমুনা অয়েলে ফের গনবদলী, তালিকায় নেই আওয়ামী পন্থী দেলোয়ার সিন্ডিকেট 

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ১১:২০ | অনলাইন সংস্করণ

  মোস্তফা সারোয়ার

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়েরের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কোম্পানি এ্যাফেয়ার্স -৪ শাখা হতে  গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে উপসচিব ( অতিরিক্ত দায়িত্ব)  এ, জেড, এম শরীফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিপিসির আওতাধীন তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা অয়েল পিএলসি, যমুনা অয়েল পিএলসি ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এর  চেয়ারম্যান ও বোর্ড ডিরেক্টরসদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ এপ্রিল সচিব মহোদয়ের সভাপতিত্বে ঐ সভায়  একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়। এরমধ্যে অন্যতম  হলো, একই ডিপোতে তিন বছরের অধিক কর্মরত কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ১০ জুনের মধ্যে  অন্যত্র বদলী করার সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয় । তারই ধারাবাহিকতায় ১১ জুন যমুনা অয়েল পিএলসির ডিজিএম ( এইচ আর) অ: দা: মোহাম্মদ জোবায়ের চৌধুরী স্বাক্ষরিত মোট ৬৬ জন কর্মকর্তা, কর্মচারীকে বদলী করা হয়।

এদিকে এই বদলী নিয়ে দ্বৈতনীতির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে বদলী বানিজ্যেরও।  একই ডিপোতে তিন বছরের কম কর্মরত অনেককের নাম  বদলীর তালিকায় এলেও এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই ডিপোতে কর্মরত, এরকম অনেককের নাম বদলীর তালিকায় স্থান পায়নি । বিশেষ করে আওয়ামিলীগপন্থী  সিন্ডিকেট সদস্য হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির ভিতর ব্যাপক  পরিচিত এরকম কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নুন্যতম একজনকেও বদলী করা হয়নি । এরকম তালিকায় রয়েছে নুন্যতম অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী, যারা এক যুগের বেশী সময় ধরে একই ডিপোতে কর্মরত আছে, যেমন চট্টগ্রাম টার্মিনাল অফিসে কর্মরত অপারেটর মো : সফিউল, মো: জাফর, গেজার সাহা উদ্দিন, জেনারেল ওয়াকার ফোরকান ( ফোরকান  -২ হিসাবে পরিচিত), আলী আজম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, পাম্প অপারেটর ইসমাইল, রিজু, ভৈরব বাজার ডিপোর অপারেটর মো: জামশেদ, এদের মতো অনেকে  স্ব স্ব ডিপোতে চাকরির মেয়াদ নুন্যতম এক যুগেরও বেশি, কিন্তু এদের নাম নেই বদলীর তালিকায় । অভিযোগ উঠেছে এরা সকলেই নিষিদ্ব সংগঠন জাতীয় শ্রমিকলীগ ও যমুনা অয়েলের সিবিএ নেতা এয়াকুব, দেলোয়ার সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য।

একাধিক  সুত্রে জানা গেছে বর্তমান সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে আছে  যমুনা অয়েল কোম্পানি শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন বিশ্বাস । সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে আবুল হোসেন ও মুহাম্মদ এয়াকুব সাময়িক ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত । তাদের অবর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে দেলোয়ার হোসেন বিশ্বাস । অবশ্য বরখাস্তকৃত এই দুই সিবিএ নেতার অত্যান্ত আস্থাশীল হিসেবেই তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে ক্ষমতাধর হিসাবে আর্ভিভুত । বর্তমানে তিনি  কর্মরত খুলনার দৌলতপুর ডিপোর সিনিয়র অফিস সহকারী হিসাবে । কিন্তু ডিপোর অঘোষিত নিয়ন্ত্রক এই সিবিএ নেতা।  

অফিস সহকারী হয়েও দখল করে রেখেছে ডেপুটি ম্যানেজারের চেম্বারটি। এই চেম্বারে  বসেই তিনি নিয়মিত অফিস করছে । অফিসে আসা যাওয়ার  জন্য ব্যবহার করে অত্যাধুনিক প্রাইভেট কার, যাহার রেজিষ্ট্রেশন নং ঢাকা মেট্রো গ - ২২৪৮৫৫, সাথে রাখেন দুজন বডিগার্ডও। বিগত আওয়ামিলীগ সরকারের আমলে  প্রভাবশালী নেতা শেখ হেলালের অত্যান্ত আস্থাশীল ও বিশ্বস্তত হিসেবে খুলনা জুড়ে ব্যাপক পরিচিতি ছিল এই দেলোয়ার হোসেন বিশ্বাসের । শুধু দৌলতপুর ডিপো নয়, পুরো খুলনাতে ছিল তার প্রতাপ প্রতিপত্তি। শেখ হেলালের সাম্রাজ্যের অবসান ঘটলেও বহাল তবিয়তে এই সিবিএ নেতা। দীর্ঘ এক যুগের সময় বেশি ধরে অদ্যবধি দৌলতপুর ডিপোর একক নিয়ন্ত্রক তিনি। এখানে গঠন করেছে তেল চুরির মহাসিন্ডিকেট।  জুলাই ছাত্র গণআন্দোলনের খুলনা প্রেসক্লাবে হামলা, ভাংচুর ও  হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে  সোনাডাঙ্গা থানায় ৪০ নাম্বার এজাহার ভুক্ত আসামি এই সিবিএ নেতা দেলোয়ার হোসেন বিশ্বাস। তবে স্থানীয় পুলিশের নাগের ডকায় প্রকাশ্যেই তিনি ঘুরাফেরা করছেন  । অবশ্য অতীতে ছিলেন শেখ হেলালের অর্থ ও লোকবলের যোগানদাতা,  বর্তমানে তিনি স্থানীয়  বিএনপি  নেতাদের অর্থ দাতা। সব ম্যানেজ  করে আগের মতোও চলছে তার তেল চুরির সিন্ডিকেট। 

বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আমার বার্তার সাথে কথা এই সিবিএ নেতার । ডেপুটি ম্যানেজারের চেম্বার দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন নুরে আলম রোবেল এখান থেকে  বদলী হওয়ার পর কয়েকদিন তিনি এই চেম্বারে বসে অফিস করেছেন এটি সত্য, তবে বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলে, তিনি চেম্বারটি ছেড়ে দেন বলে আমার বার্তাকে জানিয়েছেন । আওয়ামিলীগ নেতা শেখ হেলালের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন সিবিএ নেতার হওয়ার সুবাদে তার সাথে সম্পর্কে ছিল । সিবিএ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে শেখ হেলালের সাথে তার যোগাযোগ ছিল । কিন্তু শেখ হেলালের সাথে বিভিন্ন মিছিলের নেতৃত্বে এবং লোকবলের যোগান দেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে, তিনি এই প্রসঙ্গে এড়িয়ে যায়। অবশ্য জুলাই আন্দোলনে হত্যা প্রচেষ্টার মামলা থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন এবং মামলাটি বর্তমানে  পিবিআই তদন্ত করছে বলেও আমার বার্তাকে জানান। এদিকে একই ডিপোতে এক যুগের বেশী সময় ধরে চাকরি করছেন, এবিষয়ে তিনি আমার বার্তাকে বলেন  নির্বাচিত সিবিএ নেতাদের বদলীর বিষয়ে কিছু আইনি জটিলতা আছে , অর্থাৎ তাদের অনুমতি ব্যতিত অন্য জেলায় বদলী করা যাবেনা। অথচ ২০২৫ সালের ২৮ আগষ্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার তৎকালীন সিনিয়র সহকারী সচিব ( অতিরিক্ত দায়িত্ব)  রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত জারি করা এক চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে শ্রম আইনের ১৮৭ ধারা জ্বালানি খাতে প্রযোজ্য নয় (অর্থাৎ তাদের বদলী আইনত সম্ভব) । এদিকে ১৪ মে ২০২৬  মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের একাধিক সিবিএ নেতাকে বদলী করা হলেও যমুনা অয়েল পিএলসি এই আইন মানছেনা। 

( পরবর্তী পর্বে থাকছে দেলোয়ার হোসেন বিশ্বাসের নেতৃত্বে দৌলতপুর ডিপোতে অনিয়মই যেখানে  নিয়ম, শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন)