একজন রাইয়ান বানি ও বক্সিং নিয়ে তার স্বপ্ন...

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ১৭:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  শফিক রানা:

রাইয়ান বানি। বাংলাদেশের একজন উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় তরুণ অপেশাদার (Amateur)  বক্সার। ২০২৩ সালের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে চলতি বছরের এই সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের ঘরোয়া এবং পেশাদার - অপেশাদার বক্সিং জগতে তিনি দারুন পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি মূলত ওয়াল্টার ওয়েট ডিভিশনের একজন অ্যামেচার বক্সার হিসেবে রিংয়ে লড়াই করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের হয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের অন্যতম একজন আলোচিত বক্সার হিসেবে এএফবিপিআইএল(AFBPIL - AF Boxing Promotion)  এর আওতায় বাংলাদেশের প্রথম চ্যাম্পিয়ন  (The First Ever AFBPIL Champion)  হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় নিয়মিত লড়ছেন তিনি।

পেশাদার বক্সার এবং গ্লোবাল লেভেলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ফাইটার রাইয়ান বানির প্রধান অর্জন এএফবিপিআইএল এর প্রথম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব। এছাড়াও তিনি জেবি বক্সিং চ্যাম্পিয়নশীপ এর বিভিন্ন আসরে রিং কাঁপিয়েছেন। নেপালের শক্তিশালী বিকাশ রানার( Bikash Rana) বিপক্ষে জেবি বক্সিং চ্যাম্পিয়নশীপ এবং জেনারেল জেড ফাইট নাইট  (Gen Z Fight Night) এর মতো মঞ্চে তার দ্বিপাক্ষিক লড়াই ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। বাংলাদেশের আফতাবনগরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুয়ে থাই ( Muay Thai) টুর্নামেন্টের মতো ইভেন্টেও  তিনি অংশগ্রহণ করে দেশের মুখ উজ্জল করেছেন। তরুণ ও সম্ভাবনাময় এই বক্সার এক্স- ৩৬০ ফাইট নাইট ( X- 360 Fight Night) আসরে রিংয়ে নেমে সাফল্যের সাথে অ্যামেচার টাইটেল ( Amateur Title) অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি এএফ বক্সিং প্রমোশন (AF Boxing Promotion) আয়োজনেও জেবি  বক্সিং চ্যাম্পিয়নশীপ- ৩ এ শাহেদের মতো বক্সারের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে অংশ নেন।  যার ম্যাচ হাইলাইটস ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

রাইয়ান বাড়ির বক্সিং স্টাইল ও গতিশীলতার জন্য তিনি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে তুমুল জনপ্রিয়।  রাইয়ান বানি তার চমৎকার ডিসিপ্লিন, প্যাশন এবং ডেডিকেশনের কারনে বাংলাদেশের উদীয়মান বক্সারদের মধ্যে অন্যতম একজন হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে সমর্থ হয়েছেন।পেশাদার বক্সিং এ নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে দেশের পতাকা কে বিশ্ব দরবারের উঁচুতে তুলে ধরতে চান তিনি।

২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (ICCB) অনুষ্ঠিত X- 360 ফাইট নাইট ৫ প্রতিযোগিতায় রাইয়ান বানি এএফ বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের অ্যামেচার টাইটেল বেল্ট অর্জন করেন ভারতের বক্সার আদিত্য হুডাকে পরাজিত করে। এই জয়টি দেশীয় বক্সিং এ তাঁকে একটি বড় পরিচিতি এনে দেয়।

রাইয়ান বানি ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত জেবলি বক্সিং চ্যাম্পিয়নশীপ সিজন - ৮ (JB Boxing Championship Season -8)  এ ভারতের প্রতিযোগী পুনীত লাম্বাকে ( Puneet Mamba) ৩ রাউন্ডের একটি কঠিন লড়াইয়ে পরাজিত করে তিনি প্রথম বিপিবিএ (BPBA) অ্যামেচার ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

রাইয়ান বানি কেবল একজন বক্সার নন বরং বাংলাদেশের পেশাদার বক্সিংয়ের প্রসারে একজন বড় পৃষ্ঠপোষক। তাঁকে বাংলাদেশের প্রফেশনাল বক্সিং য়ের কনিষ্ঠতম বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি জেবি ট্রেডিং এবং এএফ বক্সিং প্রমোশনের সাথে যুক্ত থেকে দেশে নিয়মিত আন্তর্জাতিক বক্সিং টুর্নামেন্ট আয়োজনে ভুমিকা রাখছেন।

তিনি বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের অন্যতম শীর্ষ পেশাদার বক্সার ও ডব্লিউএফসি  (WFC) এশিয়া মহাদেশীয় সুপার লাইট ওয়েট চ্যাম্পিয়ন হাসান সিকদারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং একই বক্সিং ক্লাবের ট্রেনিং পার্টনার।

দেশে এতো খেলা থাকতে বক্সিংয়ের প্রতি কেন দুর্বল হলেন জানতে চাইলে রাইয়ান বানি বলেন, ছোটবেলা থেকেই বক্সিংয়ের প্রতি আমার দারুন আকর্ষন ছিল। টিভিতে পৃথিবীর বিখ্যাত বক্সারদের বক্সিং দেখতে দেখতে আমি নিজেও স্বপ্ন দেখি ওনাদের মতো বক্সার হওয়ার। সেই স্বপ্ন নিয়েই আমি বক্সিং এ নিজেকে যুক্ত করেছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি বক্সিং এ নিজের একটি ভালো অবস্থান তৈরি করতে। 

আমরা যতদূর জানি আপনি  দেশের বক্সিং খাতকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পরচিতি এনে দিতে ব্যক্তিপর্যায়ে একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তো বক্সিং নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলবেন কি? এই প্রশ্নের জবাবে রাইয়ান বানি বলেন, আপনি ঠিকই বলেছেন আমি বক্সিংকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে জেবি ট্রেডিং এর মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করার জন্য যথাসাধ্য আমি চেষ্টায় আছি। দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসাই হচ্ছে আমার প্রধান লক্ষ্য। দোয়া করবেন যাতে পরিকল্পনা মতো এগিয়ে যেতে পারি। তিনি আরও বলেন, বক্সিংকে ব্যাপকভাবে প্রসারের লক্ষ্যে সরকারের উচিত বিশেষভাবে নজর দেয়া। সরকার যদি বক্সিং খাতের প্রসারের জন্য ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসে তাহলে যুব সমাজও উদ্বুদ্ধ হবে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা বক্সিং এ ভালো কিছু করে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে চাই। এই জন্য প্রয়োজন রাস্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা। রাস্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা বক্সিং কে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো ইনশাআল্লাহ।


আমার বার্তা/এমই