ই-পেপার রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

কক্সবাজারের ৫১ পাহাড়ে ২২ হাজার অবৈধ বসতি, ঝুঁকিতে কয়েক লাখ মানুষ

আমার বার্তা অনলাইন:
১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২৩

কক্সবাজার শহর ও আশপাশের ৫১টি পাহাড়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ২২ হাজার অবৈধ বসতি, যেখানে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন কয়েক লাখ মানুষ। চলতি সপ্তাহের টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পরিবেশবাদীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত ১৮ বছরে পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১২ জন। রাজনৈতিক প্রভাব, ভূমিদস্যু চক্র এবং পুনর্বাসনের অভাবে পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

টানা বর্ষণে কক্সবাজারের পাহাড়তলী, বাদশাঘোনা, ছাত্তারঘোনা, খাজা মঞ্জিল, লারপাড়া, টেকনাইফ্যা পাহাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ে ফাটল ধরার শব্দই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। ঝুঁকি সম্পর্কে জানা থাকলেও বিকল্প আশ্রয়ের অভাবে অনেকেই পাহাড় ছাড়তে পারছেন না।

শুধু গত এক সপ্তাহেই জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে চার শতাধিক ভূমিধসের ঘটনায় পাঁচ মাদ্রাসাছাত্রীসহ অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে প্রায় তিন লাখ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

প্রতি বর্ষায় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও বৃষ্টি শেষে আবার শুরু হয় পাহাড় কাটা ও অবৈধ বসতি নির্মাণ। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, ভূমিদস্যু চক্র দরিদ্র মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে পাহাড় দখল ও বিক্রি করছে। এতে একদিকে যেমন প্রাণহানি বাড়ছে, অন্যদিকে বন উজাড় ও পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া পাহাড়ের বসতি স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা কঠিন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে এবং গত তিন দিনে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।

পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশাঘোনা এলাকায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট উঁচু একটি পাহাড়ের ঢাল, চূড়া ও পাদদেশে অন্তত ৬০০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি সেখানে নতুন করে পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণের চিহ্নও পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সিন্ডিকেট পাহাড়ি জমি দখল ও বিক্রি করছে।

পরিবেশবিষয়ক সংস্থা এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস)-এর জরিপ অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে চলতি বছরের ৮ জুলাই পর্যন্ত পাহাড়ধসে ৩১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৫৪ জন রোহিঙ্গা। সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২০১০ সালের ১৫ জুন, যখন একদিনেই প্রাণ হারান ৬২ জন।

পরিবেশবাদীদের দাবি, কক্সবাজার পৌরসভার পাঁচটি ওয়ার্ডের ৫১টি পাহাড়ে গত তিন দশকে ২২ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এসব বসতিতে দুই লাখের বেশি মানুষ বাস করছেন। তাঁদের অধিকাংশই ভাসমান শ্রমজীবী, জলবায়ু উদ্বাস্তু ও নিম্নআয়ের মানুষ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি করিম উল্লাহ বলেন, পাহাড় কাটার ফলে শুধু গাছপালা ও বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে না, পাহাড়ের পানি ধারণক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে শহরে জলাবদ্ধতাও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে পাহাড় দখল ও কাটার অভিযোগে পাঁচ শতাধিক দখলদারের বিরুদ্ধে ৩৪০টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ২২০টি পাহাড় নিধনের মামলা। বন বিভাগও গত এক বছরে পাহাড় কাটার অভিযোগে ৩০৪টি মামলা করেছে। তবে জনবল ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে পাহাড় নিধন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা জরুরি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ

দিনাজপুর সীমান্তে ৯ নারীকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ভাইগড় সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় ৯ নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী

চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরে অপরাধ ঠেকাতে কোস্ট গার্ডের অভিযান

চট্টগ্রামের বহিঃনোঙ্গরে ছিঁচকে চুরি ও পাইরেসি প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শনিবার (২৫ জুলাই)

জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি: বাণিজ্যমন্ত্রী

পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং বর্ষাকালে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন ও
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনাবাসযোগ্য ঢাকার আর্তনাদ: দায় কার, মুক্তির পথ কোথায়?

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মালদ্বীপ সফর: দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

ত্রিপাক্ষিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে সরকার : মাহ্দী আমিন

নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই সাংবাদিকতার মূল দর্শন হওয়া উচিত: তথ্যমন্ত্রী

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে: আইনমন্ত্রী

ধানমন্ডিতে হাসিনার পরিত্যক্ত ভবন থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

যন্তর মন্তরের আন্দোলন প্রত্যাহার করলো ককরোচ জনতা পার্টি

পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা জরুরি

বিক্ষোভকারীদের আরও দুই দাবি মেনে নিলো মোদি সরকার

কুশিয়ারায় পানি কমছে, সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস

ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রজ্ঞাপন জারি

জাতীয় নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বয়ের বিকল্প নেই: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহারই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি ৩১ দফার মুলা ঝুলিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: নাহিদ ইসলাম

দারুণ কাজ করেছে শিক্ষার্থীরা: ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে রাহুল গান্ধী

দিনাজপুর সীমান্তে ৯ নারীকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

পরকীয়া প্রেমিক ছাত্রদল নেতার হাত ধরে পালালেন দুই সন্তানের জননী!

হাসিনাকে তাড়িয়েছি, যদি ফ্যাসিবাদ কায়েম করেন জনগণ আপনাদেরও তাড়াবে

চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরে অপরাধ ঠেকাতে কোস্ট গার্ডের অভিযান