ই-পেপার মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ভূমিকম্প কেন হয় এবং নরসিংদী এর কেন্দ্র কেন? এ নিয়ে কিছু কথা

মো. মোশারফ হোসাইন:
০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:৪৪

ভূমিকম্প সৃষ্টি হয় ভূত্বকের গভীরে। ভূমিকম্প যেখানে সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু। কেন্দ্রবিন্দু বলা হলেও আসলে এটা হলো যথেষ্ট বিস্তৃত স্থান। এই স্থানের ঠিক উপরের মাটিকে বলা হয় ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্পের ঢেউ চার দিকে বৃত্তাকারে ছড়িয়ে পড়ে। যার কম্পনের ফলে ভেঙে পড়ে বাড়িঘর। ভূমিকম্প হয় মূলত মাটির নিচের শিলা আচমকা ভেঙে যাওয়ার ফলে। হঠাৎ করে এই ভাঙন মাটির তলার প্রচণ্ড শক্তির সৃষ্টি করে এবং এটা ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে মাটি কেঁপে ওঠে এবং মাটির ওপরে থাকা সবকিছু দুলতে থাকে। যখন মাটির নিচে দুটি ব্লক অথবা দুটি শিলার মধ্যে সংঘর্ষ হয়, তখন সেগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে যায়। তবে এটি খুব ধীরে ধীরে হয় এবং ভেঙে যাওয়া শিলাগুলো একে অপরের সাথে গায়ে গায়ে লেগে থাকে এবং একে অপরের ওপর চাপ দিতে থাকে। ভেঙে যাওয়া শিলাগুলো চাপের মধ্যে থাকায় একসময় সেগুলো ভাঙতে শুরু করে। যখন শিলাগুলো ভেঙে যায়, তখনই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। যে স্থানে শিলাগুলো ভেঙে যায়, সেটাকেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বলা হয়। একটা ছোট্ট পরীক্ষা করলে নিজেরাই ব্যাপারটা বুঝতে পারবে।

১. এক টুকরো ফোমকে দুই টুকরো করে ছিঁড়ে নিয়ে একটা সমতল টেবিলের ওপরে রাখেন।

২. ফোমের টুকরো দুটির ওপর হাত রেখে দুটি ফোমকে দুদিকে এমনভাবে চাপ দেন যাতে ফোম দুটির একটির সাথে আরেকটির জোরে ঘষা লাগে।

৩. বেশ কিছুক্ষণ এভাবে ঘষা দিলে দেখবে দুটি ফোম থেকেই একটু একটু করে টুকরা আলাদা হয়ে পড়ছে।

ঠিক এভাবেই দুটি শিলার সংঘর্ষের মাধ্যমে মাটির নিচে ভূমিকম্প হয়। এ ছাড়া মাটির নিচে বড় ধরনের বিস্ফোরণ হলেও ভূমিকম্প হতে পারে। মাটির নিচে রেলপথ, টানেল ইত্যাদি নির্মাণের জন্য বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে এ ধরনের বিস্ফোরণের প্রভাব অতটা টের পাওয়া যায় না।

ভূমিকম্প সৃষ্টি হয় ভূত্বকের গভীরে। ভূমিকম্প যেখানে সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু। কেন্দ্রবিন্দু বলা হলেও আসলে এটা হলো যথেষ্ট বিস্তৃত স্থান। এই স্থানের ঠিক উপরের মাটিকে বলা হয় ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্পের ঢেউ চার দিকে বৃত্তাকারে ছড়িয়ে পড়ে। যার কম্পনের ফলে ভেঙে পড়ে বাড়িঘর। আরেকটা কথা ভূমিকম্প বিষয়ে মানুষ টের না পেলেও অনেক প্রাণী (বিড়াল, কুকুর, বিভিন্ন পাখি ইত্যাদি) কিছুটা টের পেয়ে থাকে। কেননা, ভূমিকম্পের আগে মাইক্রো ভাইব্রেশন, শিলার চাপ থেকে উৎপন্ন ক্ষুদ্র শব্দ (ultra/infra sound), বায়ুমণ্ডলে বৈদ্যুতিক পরিবর্তন, এমনকি জলের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। মানুষ এগুলো অনুভব না করলেও অনেক প্রাণীর সেন্সর অত্যন্ত সংবেদনশীল।

ভূমিকম্পের দেশ’ হিসেবে পরিচিত জাপান বারবার বড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। ভূমিকম্প, ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামিসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয় জাপানিদের। কিন্তু জাপানে কেন এত ভূমিকম্প? ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। বাংলায় যার অর্থ হয় ‘আগুনের গোলা’। ‘রিং অব ফায়ার’ এমন একটি কাল্পনিক বেল্ট যা ঘোড়ার খুর আকৃতির মতো প্রধানত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে রেখেছে। রিং অব ফায়ারে যেসব অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেগুলো পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ। এই রিং অব ফায়ারই ৯০ শতাংশ ভূমিকম্পের কারণ। ৪০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে ৪৫২টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যা পৃথিবীপৃষ্ঠে অবস্থিত মোট আগ্নেয়গিরির ৭৫ শতাংশ। এশিয়ার জাপান, পলিনেশিয়ার টোঙ্গো, দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর এই রিং অব ফায়ারের অন্তর্ভুক্ত। তাই এসব অঞ্চলেই বেশি ভূমিকম্প হয়ে থাকে। পৃথিবীর কাঠামো মোটামুটি তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রথমত, বহির্ভাগের লবণাক্ত ও কঠিন ভূত্বক (পুরুত্ব প্রায় ৩০ কিমি.), দ্বিতীয়ত এর নিচে ২৯০০ কিমি. পুরু এক ধরনের ঘন ও আঠালো অংশ আর তৃতীয়ত সাড়ে তিন হাজার ব্যাসের কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠ। দ্বিতীয় ভাগের ঘন ও আঠালো অংশের উপরিভাগ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিভক্ত। এগুলোই হচ্ছে টেকটোনিক প্লেট। প্লেটগুলোর নাম- প্রশান্ত মহাসাগরীয়, ইউরেশীয়, আফ্রিকান, আটলান্টিক, উত্তর আমেরিকান, দক্ষিণ আমেরিকান ও ইন্দো-অস্ট্রেলিয়। টেকটোনিক প্লেটগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে বা সংঘর্ষ হলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। গত বছর নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণ ছিল ভারতীয় প্লেট (ইন্দো-অস্ট্রেলীয় প্লেটের অংশবিশেষ) ও ইউরোশীয় প্লেটের সংঘর্ষ। এই দুটো প্লেটের

সংঘর্ষের ফলেই একসময় হিমালয় পর্বতের সৃষ্টি হয়েছিল।

আজ শুক্রবার সকালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, তার কেন্দ্র ছিল নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার মাধবদী এলাকায়। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গত কয়েক দশকে দেশের ভেতরে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। এর আগে সিলেট বা নোয়াখালী অঞ্চলে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হলেও এবার তা ঢাকার আরও কাছে নরসিংদীতে। ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করেন এমন অনেকে বলছেন, এর আগে ঢাকার এত কাছে এই মাত্রার ভূমিকম্প উৎপত্তি হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বিবিসি বাংলার সাথে, ভূমিকম্প গবেষক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী এই কেন্দ্রস্থলের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে টেকটোনিক প্লেটের যে পাঁচটি উৎস বা সোর্স আছে, তার মধ্যে নোয়াখালী থেকে শুরু করে কক্সবাজার, নোয়াখালী থেকে সিলেট এবং আরেকটি সিলেট থেকে ভারতের দিকে চলে গেছে। তিনি মনে করেন, নোয়াখালী থেকে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত এই অংশে যে বড় ফাটল রয়েছে, তারই একটি ছোট অংশ নরসিংদী। ফলে এই এলাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। উল্লেখ্য প্রায় একশ বছরের মধ্যে দেশে বড় ভূমিকম্প হয়নি। কিন্তু আমাদের দেশে বড় ভূমিকম্প হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। সেদিক থেকে এই ভূমিকম্পটিকে 'ফোরশক' বলা যায়। অর্থাৎ, একটি বড় ভূমিকম্প আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলো হয়, এটি তার মধ্যে একটি। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ৭ মাত্রার ভূমিকম্প ১০০ থেকে ১২৫ বছর পরপর এবং ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ২৫০ থেকে ৩০০ বছর পরপর আসার সম্ভাবনা থাকে। ১৯৩০ সালের পর দেশে বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

লেখক : উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পরশুরাম, ফেনী।

আমার বার্তা/ মো. মোশারফ হোসাইন/এমই

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল বনাম ইরান: যুদ্ধের কিনারায় বিশ্ব, কূটনীতির শেষ সুযোগ

মধ্যপ্রাচ্য আবারও এমন এক অগ্নিগর্ভ বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যা শুধু একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয় বরং

জনগণের হাসি কি ম্লান হতে শুরু করেছে

এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে অটোম্যান সাম্রাজ্যের রাজত্ব ছিল। বিচ্ছিন্ন কিছু সময়কাল ও

মাদককে ‘না’ বলি: সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি

একটি উন্নত সমাজ, সমৃদ্ধ অর্থনীতি এবং সুস্থ-সবল প্রজন্মের স্বপ্ন আমাদের সবার। একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি

পোশাক পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন চায় সাধারণ মানুষ

পোষাক নয় আচরণের পরিবর্তন চায় সাধারণ মানুষ। নতুন করে আবারও পোষাক পরিবর্তন এর দাবি উঠেছে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে ঢাকায় আসছেন সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুদ্ধ কখন এবং কিভাবে শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ইরান: আব্বাস আরাগচি

বৈশ্বিক রাজনীতিতে নৈতিকতার ভয়াবহ অভাব দেখা যাচ্ছে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

মোহাম্মদপুরে প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮ জন

প্রধানমন্ত্রী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চলতে চান, কেউ যেন সুবিধা নিতে না পারে: তথ্যমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’

চিফ হুইপ হলেন নুরুল ইসলাম মনি, নিয়োগ পেয়েছেন আরও ৬ হুইপ

ফায়ার সার্ভিসের ৪ কর্মকর্তার উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর পরিণতি ঘিরে অনিশ্চয়তা

কুয়েতের ভুলে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত: দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ঢাকায় আইবিসিসিআই এর ইফতারে যোগ দিলেন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত

নতুন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসসহ কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার ও ৩ উপ-প্রেস সচিব নিয়োগ

বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের ভিসা জটিলতা নিরসনে ‘বিশেষ সেল’

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, পুলিশকে আইজিপির কড়া বার্তা

সিরাজগঞ্জে মাছ ধরা নিয়ে আ.লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে নিহত ২ জন

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বিপ্লবী গার্ড

অন্যায়ভাবে বাদ পড়লে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পাবেন সাংবাদিকরা: তথ্যমন্ত্রী