
নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমপরিমাণ শুল্ক-কর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ওপর আরোপ করা হলে সরকার বছর ১ হাজার কোটি থেকে ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব পেত। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানির তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানিকে এভাবে শুল্ক ছাড়ে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার কারণে রাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।
রোববার (৭ জুন) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ আয়োজিত ‘ফসিল ফুয়েল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে বিদ্যমান রাজস্ব বৈষম্য : জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প সমাধান’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় এ কথা বলেন।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এনবিআর বর্তমানে আমদানি করা এলএনজিকে বাজারে কৃত্রিমভাবে সস্তা ও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে রেখেছে। এর ফলে এলএনজির ওপর মোট করের হার মাত্র ৯.৫ শতাংশ। অন্যদিকে, পরিবেশবান্ধব সৌর বিদ্যুতের (সোলার) সরঞ্জামের ওপর মোট করের হার প্রায় ৩১ শতাংশ এবং বায়ু বিদ্যুতের ওপর এই হার ২৯ শতাংশ। এলএনজি আমদানিতে যদি সৌর বিদ্যুতের সমপরিমাণ কর বা টিটিআই আরোপ করা হতো, তবে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হতো ১ হাজার ২৯৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। একইভাবে যদি বায়ু বিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করা হতো, তবে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আসতো ১ হাজার ৫৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ, জীবাশ্ম জ্বালানিকে এই অন্যায্য সুবিধা দিতে গিয়ে সরকার বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
অন্যদিকে কয়লা আমদানির ওপর যদি পরিবেশবান্ধব সৌর বিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করা হতো তবে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় আসতো ৬৬৩ কোটি ৬১ কোটি টাকা। সৌর বিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করলে তেল খাত থেকে আয়ের পরিবর্তে সরকারের রাজস্ব উল্টো ৪ হাজার ৯৫১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা কমে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের বড় বাধা হলো এই শুল্ক-কর বৈষম্য। একদিকে এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট শূন্য এবং অগ্রিম আয়কর মাত্র ২ শতাংশ, অন্যদিকে সোলার প্যানেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের ওপর ৭.৫ শতাংশ অগ্রিম কর এবং ৫ শতাংশ এআইটি চাপিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিনিয়োগকারীদের কাছে কৃত্রিমভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
রাজস্বের এই ক্ষতি ও বৈষম্য দূর করতে সিপিডির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে— এলএনজি আমদানির ওপর বিদ্যমান শূন্য ভ্যাট সুবিধা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে অন্যান্য সাধারণ জ্বালানির মতো ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুনর্বিন্যাস করা, সোলার ও উইন্ড সরঞ্জামের ওপর থেকে ৭.৫ শতাংশ অগ্রিম কর বাতিল করা এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট গ্রিড ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য বিশেষ ‘সবুজ ভর্তুকি’ও অনুদান বরাদ্দ করা।
বর্তমান কর ও বাজেট কাঠামোটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিকে পরোক্ষভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই বৈষম্য দূর করতে কয়লা ও এলএনজির শুল্ক সুবিধা যৌক্তিকীকরণ এবং তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানায় সিপিডি।
আমার বার্তা/এমই

