ই-পেপার শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

১৮৫৭ সালে ডেনমার্ককে ক্ষতিপূরণ দিয়ে টোল বন্ধের বাস্তবতা হরমুজে

আমার বার্তা অনলাইন
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৬

সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা ও টোল আদায় করবে বলে জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও হোয়াইট হাউস কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা উড়িয়ে দিয়েছিল। যদিও এই ‘যৌথ উদ্যোগ’ বা জয়েন্ট ভেঞ্চার নীতিগতভাবে কার্যকর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, তবু ট্রাম্পের এই অনিচ্ছাকৃত প্রস্তাবটি বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গভীর ও কাঠামোগত সত্যকে উন্মোচিত করেছে।

ফরাসি দার্শনিক মঁতেস্কু ১৭৪৮ সালে তাঁর ‘দ্য স্পিরিট অব লজ’ গ্রন্থে লিখেছিলেন, বাণিজ্যের স্বাভাবিক ফল হলো শান্তি। ট্রাম্পের প্রস্তাবটি এই ধারণারই একটি আধুনিক, তবে নিষ্ঠুর সংস্করণ। দীর্ঘদিন ধরে একটি অলিখিত ধারণা ছিল, হরমুজ প্রণালি কারও একার নয়, এটি ‘পাবলিক গুডস’ বা জনসম্পদ। মার্কিন নৌবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব এই ধারণাকে টিকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের ছয় সপ্তাহের মাথায় সেই বাস্তবতা বদলে গেছে। ইরান বর্তমানে প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর মালিকানা ও কার্গো নথি পরীক্ষা করছে এবং ইউয়ান বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে মাশুল আদায় করছে।

যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে শক্তিশালী হলেও সংকটকে স্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় রূপান্তর করতে পারেনি। ফলে যেই জলপথ আগে ‘সবার’ ছিল, তা এখন দুই শত্রুদেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

মঁতেস্কু বিশ্বাস করতেন, ‘দুস কমার্স’ নীতি বাণিজ্য শত্রুতাকে কমিয়ে দেয়। কারণ, দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা বজায় রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ট্রাম্পের প্রস্তাবটি মঁতেস্কুর এই তত্ত্বের কোনো গভীর দার্শনিক রূপ নয়, বরং এটি বাণিজ্যের একটি ‘কঙ্কালসার’ বা নিছক লেনদেনের রূপ। ট্রাম্প যখন ইরানের সঙ্গে টোল ভাগাভাগির কথা বলেন, তখন তিনি ইরানকে ‘শত্রু’ হিসেবে নয়, বরং একজন ‘ব্যবসায়িক অংশীদার’ হিসেবে দেখছেন। এটি প্রমাণ করে যে যখন সামরিক এবং আইনি কাঠামো ভেঙে পড়ে, তখন ‘টাকা’ বা ‘লেনদেন’ হয়ে ওঠে একমাত্র যুক্তি।

ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো উপসাগরীয় দেশগুলোর (কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও আরব আমিরাত) ওপর এর প্রভাব। এই দেশগুলোর অস্তিত্ব টিকে আছে হরমুজ প্রণালির ওপর। অথচ ট্রাম্পের প্রস্তাবে তাদের কোনো জায়গাই নেই।

যদি আমেরিকা ও ইরান মিলে টোল আদায় করে, তবে আরব দেশগুলো কার্যত তাদের ঘোর শত্রু (ইরান) এবং তাদের প্রধান মিত্র (আমেরিকা)—উভয়কেই টাকা দিতে বাধ্য হবে তাদের নিজস্ব পণ্য পরিবহনের জন্য। এটি একটি ‘শিকারি’ সমীকরণ, যেখানে ছোট দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে পাশ কাটিয়ে দুই বড় শক্তি বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ ভাগ করে নেয়।

ইউরোপীয় দেশগুলোসহ চীন, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো যারা জ্বালানির জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ নির্ভরশীল, তারা এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। তারা যে জলপথকে আন্তর্জাতিক অধিকার বলে জানত, তার জন্য এখন টোল গুনতে হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশন এই টোলকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করলেও সমুদ্রের বর্তমান বাস্তবতা আইনি যুক্তির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

১৮৫৭ সাল পর্যন্ত ডেনমার্ক ওরেসুন্দ প্রণালিতে এই ধরনের টোল আদায় করত। আইনি যুক্তি দিয়ে তা বন্ধ করা যায়নি; এটি বন্ধ হয়েছিল যখন বড় শক্তিগুলো ‘কোপেনহেগেন কনভেনশনে’ ডেনমার্ককে ক্ষতিপূরণ দিয়ে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছেছিল। হরমুজ প্রণালিতেও ইরান বর্তমানে যে মাসিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয়ের পথ তৈরি করেছে, তা কোনো আইনি যুক্তিতে বন্ধ করা কঠিন হবে। এর জন্য হয়তো একটি বড় ধরনের আর্থিক বা রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন পড়বে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবটি হয়তো একটি ‘সাররিয়াল’ বা পরাবাস্তব কল্পনা হতে পারে, কিন্তু এটি একটি স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে—পুরোনো আন্তর্জাতিক আইন (যেমন UNCLOS) এখন অকার্যকর হয়ে পড়ছে। যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। এখন প্রশ্নটি আর আইনি নয়, বরং প্রশ্নটি হলো ‘দামের’। বাণিজ্যের এই নতুন যুক্তিতে কে কত মাশুল দেবে এবং কে তা পকেটে ভরবে, তা নিয়েই এখন পর্দার আড়ালে দর-কষাকষি চলছে।

ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ যাত্রীর সবাই নিহত

ইন্দোনেশিয়ায় একটি বেসামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। চালকসহ মোট ৮ জন যাত্রী ছিলেন হেলিকপ্টারটিতে; দুর্ঘটনায় তারা

রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি পেল বাংলাদেশ

রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশকে নতুন করে ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বজুড়ে

হরমুজ নিয়ে ৪০ দেশের বৈঠক ডাকল যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স

প্রায় ৪০টি দেশের নেতাদের নিয়ে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য ও

যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, চীনের বৃহত্তম বাণিজ্য মেলায় উদ্বেগ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় চীনের উৎপাদন খাতে চাপ তৈরি হয়েছে, যার নেতিবাচক
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ যাত্রীর সবাই নিহত

কক্সবাজার সীমান্তে দুস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিলো বিজিবি

বাজারে অকটেন সরবরাহ ২৫% বাড়ানোর পরিকল্পনা বিপিসির

রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি পেল বাংলাদেশ

মুক্তিযুদ্ধের ৫৬ বছরেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা যায়নি: ফখরুল

হরমুজ নিয়ে ৪০ দেশের বৈঠক ডাকল যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স

ট্রাকের পেছনে পিকআপের ধাক্কায় ৩ ঘোড়াসহ দুইজন নিহত

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও উন্নতির কথা জানালেন সিমন্স

নরসিংদীতে অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার লিটার তেল জব্দ

যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, চীনের বৃহত্তম বাণিজ্য মেলায় উদ্বেগ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ, তদন্তে নামল আইসিসি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরুর অনুমতি

১০ মিনিটে তৈরি করুন আফগানি চিকেন কাবাব মালাইকারি

ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগে ঝড়ো বৃষ্টির আভাস

ভূমি দখলের মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন

ইউটিউবে চাইলেই এখন বন্ধ করা যাবে ‘শর্টস’ ফিচার

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে এখন: প্রতিমন্ত্রী

হরমুজ থেকে মাইন অপসারণে নতুন যে যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করলো আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক

জুলাই সনদকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না: এটিএম আজহার