
সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে রিয়াদ। খবর আলজাজিরার।
মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে বলেন, হুথিরা আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান প্রদেশের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলা কখন হয়েছে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি।
আল-মালিকি হামলাগুলোকে বিপজ্জনক উত্তেজনা এবং সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব হামলা সৌদি আরবের নাগরিক ও বাসিন্দাদের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করেছে।
হামলা মোকাবিলা এবং হুমকির উৎসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জোট প্রয়োজনীয় সব ধরনের অভিযান পরিচালনামূলক পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।
আলাদা এক বিবৃতিতে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার ভোরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি খাতের কয়েকটি স্থাপনা ও অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন নাগরিক ও বাসিন্দা আহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরে যায়। ফলে কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।
যদিও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি হুথিরা।
এর আগে হুথিরা অভিযোগ করে, উত্তর ইয়েমেনের আল-জাওফ গভর্নরেটের আল-হাজম এলাকায় একটি কারাগারে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে গোষ্ঠীটি। তারা বলেছে, ইয়েমেনের ওপর চলমান সৌদি আগ্রাসন শাস্তি ছাড়া পার পাবে না।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে দেশটিতে সংঘাত চলছে। এর পরের বছর হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে এই জোট।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই অনেকটাই থেমে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর আবারও সংঘাত বাড়তে থাকে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে সানা বিমানবন্দরে হামলার পর হুথিরা সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ওই মাসের শেষ দিকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধের ঘোষণা দেয় গোষ্ঠীটি এবং লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা শুরু করে।
গত বৃহস্পতিবার হুথিরা বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। তারা পশ্চিম তাইজ ও দক্ষিণ হোদেইদাহ হয়ে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী আল-মাখা ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে।
প্রাথমিকভাবে তাইজের পশ্চিম ও হোদেইদাহর দক্ষিণাঞ্চলে লড়াই সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা আল-দালেয়া, মারিব, আল-জাওফ ও আল-বাইদা প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। হুথিদের বাহিনীকে বিভিন্ন দিকে ব্যস্ত রাখা এবং তাদের ওপর চাপ বাড়াতেই সরকারপন্থি বাহিনী এই কৌশল নিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ২৪ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত সংঘাতে প্রায় ১ হাজার ৭৮ জন নিহত বা আহত হয়েছেন। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার থেকে ২১ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। - সূত্র : আলজাজিরা

