
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর শাহে আলম বলেন, ‘যেকোনও মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। কেবল নির্দিষ্ট সময়ের অভিযানে সীমাবদ্ধ না থেকে বছরজুড়ে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তিন মাস ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক ও রাপা প্লাজা এলাকায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই প্রতিমন্ত্রী ও প্রশাসক মাঠপর্যায়ে চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল ও সার্বিক পরিবেশ পরিদর্শন করেন।
এ সময় তারা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এর আগে তারা রাজধানীর সেচ ভবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’-এর পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য এডিস মশার প্রজননস্থল পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং জনসচেতনতা তৈরি করা।’
তিনি বলেন, ‘নগরীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
নির্মাণাধীন ভবনসহ যেকোনও স্থানে পানি জমে থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘অবহেলা পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে।’ তবে তিনি শাস্তির চেয়ে নাগরিক সচেতনতার ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে বলেন, ‘নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার স্বার্থেই সবাইকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত শহর গঠনে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ অভিযানে সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
পরিদর্শনকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

