
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলকে ‘নিষিদ্ধ’ করার দাবি ওঠার পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এ কমিটির সভাপতি। তার সঙ্গে তিনজন সদস্য এ কমিটিতে দায়িত্ব পালন করবেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কোনো শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ পরিপন্থি কাজে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
জানা যায়, গত ২৭ জুলাই বিকেলে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দের’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। এ সময় তারা জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ও ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা আওয়ামী ও বামপন্থি ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা হস্তান্তর করে তাদের শাস্তি ও নীল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানান।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় বিএনপি ও জামায়াতপন্থি শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিগত সরকারের সময়ে বিতর্কিত ও ছাত্রবিরোধী ভূমিকা পালনকারী শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত করতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সিন্ডিকেটের সভা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। এতে কাউকে দোষী পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি কোনো সংগঠনকেও যদি এতে যুক্ত পাওয়া যায়, সেটিও নিষিদ্ধ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দের ব্যানারে অভিযোগ দেওয়ার পর ভিসি স্যারের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে কোনো শিক্ষককে দোষী পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সংগঠন জড়িত থাকলেও তাদেরও নিষিদ্ধ করা হবে।
আমার বার্তা/এমই

