
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এফসিএমএ এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মতিবিনিময় করেছে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর নেতৃত্বে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে মতিঝিলে গভর্নরের কার্যালয়ে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ব্যবসা বাণিজ্যের বিভিন্ন সংকটের চিত্র তুলে ধরে অর্থনীতির স্বার্থে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ধীরে ধীরে এক অঙ্কে (সিঙ্গেল ডিজিট) নামিয়ে আনার আহ্বান জানায় এফবিসিসিআই। এছাড়া রপ্তানি উন্নয়নের স্বার্থে ইডিএফ ফান্ডের পরিসর বিস্তৃতিকরণ ও সকল রপ্তানি খাতের জন্য উন্মুক্ত রাখার অনুরোধও জানায় তারা।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্ণর-এর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এফবিসিসিআই এবং দেশের ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে মো. মোস্তাকুর রহমান-কে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, বর্তমান গভর্ণর এমনই এক মুহুর্তে দায়িত্ব গ্রহন করেছেন যখন দেশের অর্থনীতিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বেশকিছু চ্যালেঞ্জ বিরাজ করছে। এফবিসিসিআই মনে করে দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনাসহ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, ধারাবাহিক ও বাস্তবভিত্তিক মনিটরি পলিসি প্রণয়ন এবং বিনিয়োগ আকর্ষনে বর্তমান গভর্নরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক উপযুক্ত ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
সুদের হার স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানিয়ে এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগীতা সক্ষমতা ধরে রাখা ও বিনিয়োগের স্বার্থে সুদের হার স্থিতিশীল রাখা জরুরী। সুদের হার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের অন্যতম পন্থা হলেও আর্থিক খাত, রাজস্ব খাত ও বাজার ব্যবস্থাপনার পরিপূর্ন সমন্বয় ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে সুদের হার ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এক অঙ্কে (সিঙ্গেল ডিজিট)-এ নামিয়ে আনার অনুরোধ জানান তিনি।
এসময় বৈদেশিক মূদ্রার (ডলার) যোগান স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পলিসি সহায়তা প্রদান, বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবাহ যথাসাধ্য বৃদ্ধি করা, অনাদায়ী/খেলাপী ঋণ (এনপিএল) কমিয়ে আনা, জনশক্তি রপ্তানী বাড়াতে বিদেশগামীদের আর্থিক সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণসহ অবাধ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং গ্রাহক ঋণসীমা (Single Borrower Exposure) বর্ধিতকরণের প্রস্তাব জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।
কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতকে প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করছে উল্লেখ করে বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক।
ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের ব্যাংকিং সমস্যা দ্রুত সমাধানে বিশেষ কমিটি গঠনের আহ্বান জানান এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো. আলমগীর। দেশের ব্যবসা বাণিজ্য তথা অর্থনীতির স্বার্থে এফবিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এফবিসিসিআই।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলে ছিলেন, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন এর সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম সরকার, বিজিএমইএ এর পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, এফবিসিসিআিইর সাবেক পরিচালক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী (খোকন), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম, বারভিডার সভাপতি মো. আবদুল হক, উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউরস্ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব) এর সভাপতি নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুঃ এসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ জুয়েলারী ম্যানুঃ এন্ড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারী প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশ সিএনজি মেশিনারীজ ইম্পোটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন নয়ন, বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন প্রমুখ।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এসময় তাদের খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করেন।
আমার বার্তা/এমই

