
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কেবল উপাসনার স্থান নয়, বরং ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চায় সরকার।
শনিবার (১৪ মার্চ) রমজানের ২৪তম দিনে ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শুরুতেই উল্লেখ করেন, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর ভোটের কালি নখ থেকে মোচনের আগেই আমরা আমাদের সকল প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ‘ফার্মার্স কার্ড’ ও ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে ‘খাল খনন কর্মসূচি’ শুরু হতে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আজ থেকে ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু হলো।
তারেক রহমান বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হয়তো আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য দেয়, কিন্তু ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা ও সহনশীলতা ছাড়া একজন ব্যক্তি প্রকৃত মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন হয়ে উঠতে পারে না।
তিনি পবিত্র হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যার আমানতদারি নেই, সে প্রকৃত ইমানদার নয়। যার ওয়াদা ঠিক নেই, তার কোনো ধর্মই নেই।
হিংসা ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে ধর্মের এই উদার নৈতিক শিক্ষা অতুলনীয় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু করেছিলেন এবং ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকার ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় সাড়ে তিন লক্ষ মসজিদকে নৈতিক শিক্ষার মূল কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা করছে।
সরকারপ্রধান বলেন, পাইলটিং স্কিমের আওতায় প্রথম পর্যায়ে মোট ৪৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় গুরুকে মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি যোগ্য ব্যক্তিকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে বলেন, প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মিটিংয়ে একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া ধর্মীয় নেতারা যদি উপাসনার পাশাপাশি অন্য কোনো সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে চান, তবে সরকার তাতে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আমরা আজ সব ধর্মের মানুষ এক কাতারে বসেছি। এটিই আমাদের আবহমানকালের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান; বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী—আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো।
তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। আমরা দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
আমার বার্তা/এমই

